এবার বাংলায় জঙ্গলরাজের অবসান হবে: প্রধানমন্ত্রী মোদি

Screenshot_20260315_011420_Facebook

কলকাতা: প্রায় দুই মাসের ব্যবধানে আবারও পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার দুপুরে সরাসরি অসমের শিলচর থেকে কলকাতায় পৌঁছে ব্রিগেডে সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দেন তিনি। ব্রিগেডের সভায় অংশ নিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর মানুষ ভিড় জমিয়েছেন।
ছোট্ট রামের উপস্থিতি এবং উষ্ণ অভ্যর্থনা:
সভায় একটি ছোট্ট শিশুও উপস্থিত ছিলেন, যার হাতে ছিল একটি গদা এবং অপর হাতে প্রধানমন্ত্রী মোদির কাটআউট। শিশু যেন স্থির দাঁড়িয়ে ছিল। বক্তব্য শুরু হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী শিশুটিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “এই বাচ্চা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে। কেউ দয়া করে এই ছবিটি সংগ্রহ করুন, যাতে সে বসতে পারে। ধন্যবাদ বেটা, তুমি খুব সুন্দর ছবি এঁকেছ।” এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবাসীর মন জয় করতে সক্ষম হন।
বাংলায় অভিবাদন এবং জনসমাগমের প্রশংসা:
প্রধানমন্ত্রী ভাষণ শুরুতেই বাংলায় বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “আমার প্রিয় বাংলাবাসী, আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে প্রণাম।” ঐতিহাসিক ব্রিগেড ময়দানের বিশাল জনসমাগমের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “যেখানে চোখ যায়, সেখানেই মানুষ। এক অদ্ভুত দৃশ্য।”
তৃণমূলকে নিশানা এবং পরিবর্তনের ডাক:
সভায় আসা মানুষের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ তোলেন, সভায় অংশ নিতে আসা মানুষকে আটকাতে তৃণমূল সবরকম চেষ্টা করেছে—রাস্তা বন্ধ, পোস্টার ছিঁড়ে, ভয় দেখানো হয়েছে। কিন্তু তাতেও মানুষের উপস্থিতি কমানো যায়নি। তিনি বলেন, “মানুষের এই বিপুল উপস্থিতিই প্রমাণ করছে, এই সরকারের যাওয়ার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। এবার বাংলায় জঙ্গলরাজের অবসান হবে। আইনের শাসন শুরু হবে। যে আইন ভাঙবে, তাকে খুঁজে বের করা হবে।”
তৃণমূলের কৌশল ও জনগণের অধিকার:
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “তৃণমূল মা-মাটি মানুষের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু সেই মা আজ কাঁদছে। মাটিকে লুট করা হচ্ছে। বাংলার মানুষ বাংলাকে নিজেদের মাতৃভূমি মনে করলেও তাদের নাগরিকত্ব দিতে চায় না তৃণমূল। এই সরকারের অবসান ঘটলেই বাংলায় গরিবদের মুক্তি এবং বিকাশ সম্ভব।” তিনি তৃণমূলের কাটমানির বিরুদ্ধেও সরব হন এবং বলেন, “সবকিছুর পিছনে তৃণমূলের খোঁজ। পরিবর্তনের সরকার এলে বাংলার যুবকরা বাংলাতেই কাজের সুযোগ পাবে।”
নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও অবকাঠামোর প্রসঙ্গ:
প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন, “বাংলায় মা ও বোনেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। অপরাধীরা জেল হাজতে থাকবেন। এটি আমার গ্যারান্টি।” এছাড়া তিনি ৪২০ কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যের বিভিন্ন জাতীয় সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এসব প্রকল্পের মোট খরচ প্রায় ১৮,৮৬০ কোটি টাকা। তিনি আরও বলেন, এগুলো পূর্ব ভারতের লজিস্টিকস ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে। রেল সম্প্রসারণ, জলপথ উন্নয়ন এবং হালদিয়া ও কলকাতা ডকের সংস্কারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
রাজনৈতিক গুরুত্ব:
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ব্রিগেড সভা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব ধারণ করছে। বিজেপি নেতারা মঞ্চ থেকে দাবি করেন, “প্রধানমন্ত্রীর সভায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি দেখিয়েছে, এবার বাংলায় পরিবর্তন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।”

About Author

Advertisement