ইউএই–ভারত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ঘাবড়ে গেল পাকিস্তান, দৌড়ে পৌঁছালেন জারদারি
নয়া দিল্লি: পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি হঠাৎ করেই চার দিনের সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পৌঁছেছেন। এর আগে ইউএই ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংক্রান্ত চুক্তি বাতিল করেছে। একই সঙ্গে ইউএই ভারতের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিও করেছে। এর ফলে ইউএই ও পাকিস্তানের সম্পর্কের মধ্যে ক্রমশ তিক্ততা বাড়ছে। পাকিস্তানি নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই ঋণের জন্য ইউএইর দ্বারস্থ হয়ে আসছেন, যাতে দেউলিয়া অর্থনীতিকে কোনওভাবে সচল রাখা যায়।
ইউএইর আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল পাকিস্তান সম্প্রতি সাউদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে, যা ইউএইকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। বর্তমানে ইয়েমেন থেকে সুদান—বিভিন্ন ইস্যুতে ইউএই ও সাউদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক যথেষ্ট টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান সাউদি শিবিরে ঝুঁকে পড়ার পর ইউএই ভারতের দিকে ঝোঁক বাড়িয়েছে। সম্প্রতি ইউএইর রাষ্ট্রপতি মহম্মদ বিন জায়েদ ভারত সফরে আসেন এবং ভারত–ইউএই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর হয়। এর পরেই ইউএই পাকিস্তানের সঙ্গে ইসলামাবাদ বিমানবন্দর সংক্রান্ত চুক্তি বাতিল করে দেয়। এই গোটা ঘটনাপ্রবাহে পাকিস্তানের নেতৃত্ব আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এবং সেই কারণেই রাষ্ট্রপতি জারদারি হঠাৎ ইউএই সফরে পৌঁছেছেন।
সোমবার চার দিনের সফরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি জারদারি ইউএইর আবু ধাবিতে পৌঁছান। তাঁর সংবর্ধনার ধরন থেকেই পরিস্থিতির শীতলতা বোঝা যায়—তাঁকে স্বাগত জানাতে ইউএইর বিচারমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। জারদারির সঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিও সফরে গিয়েছেন। জানা গেছে, জারদারি ইউএইর নেতৃত্বের সঙ্গে বাণিজ্য, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন। পাকিস্তান চাইছে নিরাপত্তার নামে গোটা আরব দুনিয়ায় নিজের প্রভাব বাড়াতে। বিশ্লেষকদের মতে, এর আড়ালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে ডলার সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পাকিস্তান থেকে দূরে সরে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ইউএই:
অন্যদিকে, ইউএই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর এই কৌশল বুঝে ফেলেছে এবং ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, জারদারি পশ্চিম এশিয়া থেকে দক্ষিণ এশিয়ার বদলে যাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। এতদিন ইউএই পাকিস্তানকে আর্থিক সাহায্য ও তেল দিয়ে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচিয়েছে, কিন্তু এখন জিন্নাহর দেশ সাউদি আরবের শিবিরে চলে গেছে। ইউএই পাকিস্তানের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। পাকিস্তানি সেনা, রাজনীতিবিদ ও ধনকুবেররা বিপুল পরিমাণে দুবাইয়ে বিনিয়োগ করেছেন। প্রায় ১৫ লক্ষ পাকিস্তানি ইউএইতে কাজ করেন। কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ইউএইর সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বহু পুরনো।
ইসলামিক ন্যাটো গড়তে চায় পাকিস্তান:
এদিকে পাকিস্তান ও সাউদি আরবের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তির পর ইউএই সতর্ক হয়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, পাকিস্তান সাউদি আরব ও তুরস্ককে সঙ্গে নিয়ে একটি ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গড়তে চায়। মুসলিম ব্রাদারহুড ইস্যুতে তুরস্ক ও ইউএইর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই কারণেই ইউএই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করেছে। ইউএই ভারত থেকে অস্ত্র কেনার পরিকল্পনাও করছে। সেই কারণেই ইউএইর রাষ্ট্রপতি এমবিজেড ভারত সফরে এসেছিলেন। পাশাপাশি পাকিস্তানকে বড় ধাক্কা দিয়ে ইউএই ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চুক্তি থেকেও সরে দাঁড়িয়েছে। এই চুক্তি নিয়ে পাকিস্তান ও ইউএইর মধ্যে ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে আলোচনা চলছিল। পাকিস্তানি সংবাদপত্র দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, ইউএইর এখন ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে আর কোনও আগ্রহ নেই।










