নয়াদিল্লি: গাজার হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, শনিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত অক্টোবরে যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশ্যে যে যুদ্ধবিরতি (সিজফায়ার) কার্যকর হয়েছিল, তার পর থেকে এটি অন্যতম ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা।
ইসরায়েল হামাসের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার একদিন পর গাজার বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজা সিটিতে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন এবং খান ইউনিসে একটি টেন্ট ক্যাম্পে মারাত্মক হামলা হয়। নিহতদের মধ্যে দুইটি ভিন্ন পরিবারের দুইজন নারী ও ছয়জন শিশু রয়েছে। শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সেলমিয়া জানান, গাজা সিটিতে একটি পুলিশ স্টেশনে চালানো বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হন।
এই ধারাবাহিক হামলা গাজার দক্ষিণতম শহর রাফায় মিশরের সঙ্গে সীমান্তবর্তী রাফা ক্রসিং খোলার ঠিক একদিন আগে ঘটে। প্রায় পুরো যুদ্ধকালজুড়েই এই অঞ্চলের সব সীমান্ত চেকপোস্ট বন্ধ ছিল। ফিলিস্তিনিরা রাফাকে এলাকার বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা হাজার হাজার মানুষের জন্য জীবনরেখা হিসেবে দেখেন, কারণ গাজার অধিকাংশ চিকিৎসা অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। শুরুতে সীমিতভাবে খুলতে যাওয়া এই ক্রসিংটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের প্রথম বড় পদক্ষেপ। সীমান্ত পুনরায় খোলা চলমান ধাপের অন্যতম কঠিন ইস্যু, যার মধ্যে প্রায় দুই দশক ধরে হামাসের শাসনের পর গাজার নিরস্ত্রীকরণ ও পুনর্গঠন তদারকির জন্য একটি নতুন সরকার গঠনের বিষয়ও রয়েছে।
তবে শনিবারের হামলাগুলো দেখিয়ে দেয় যে যুদ্ধবিরতি ধীরে ধীরে এগোলেও গাজায় মৃত্যুর সংখ্যা এখনও বাড়ছে। নাসির হাসপাতাল জানিয়েছে, টেন্ট ক্যাম্পে হামলায় আগুন ধরে যায় এবং এতে সাতজন নিহত হন—যাদের মধ্যে একজন বাবা, তাঁর তিন সন্তান এবং তিন নাতি-নাতনি রয়েছে। অন্যদিকে শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে, শনিবার সকালে গাজা সিটির একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে হামলায় তিন শিশু, তাদের ফুফু ও দাদি নিহত হন। পুলিশ স্টেশনে হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হন—এর মধ্যে কর্মকর্তা, চারজন নারী পুলিশ সদস্য এবং সেখানে আটক থাকা বন্দিরাও ছিলেন। হামাস-পরিচালিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব হামলায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকরাও নিহত হয়েছেন।
হামাস শনিবারের হামলাকে “নতুন ও প্রকাশ্য যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন” বলে আখ্যা দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কাছে ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধের জন্য চাপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, যারা যুদ্ধবিরতির সীমারেখার উভয় পাশে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, জানিয়েছে যে অক্টোবর থেকে তাদের হামলাগুলো চুক্তি লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবারের হামলাগুলো একদিন আগে সংঘটিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে চালানো হয়েছে, যখন সেনাবাহিনী রাফার ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একটি সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে আসা অন্তত চারজন জঙ্গিকে হত্যা করে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে ৫০৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই মন্ত্রণালয় হামাস-নেতৃত্বাধীন সরকারের অংশ এবং নিহতদের বিস্তারিত নথি সংরক্ষণ করে, যেগুলোকে জাতিসংঘের সংস্থা ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা সাধারণত বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেন।









