নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষ তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আমেরিকার কাছে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের “প্রায় অসীম সরবরাহ” রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা দীর্ঘ সময় ধরে শত্রুর মোকাবিলা করার সক্ষমতা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো যুদ্ধের ফলাফল কেবল অস্ত্রের সংখ্যার উপর নির্ভর করে না। উদাহরণ হিসেবে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ-এর কথা উল্লেখ করা হচ্ছে, যেখানে তুলনামূলক কম সম্পদ থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার মোকাবিলা করে আসছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুতেই আমেরিকা ও ইজরায়েল মিলে ইরানের বিরুদ্ধে দুই হাজারেরও বেশি হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরান প্রায় ৫৭১টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১,৩৯১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। যদিও এর অনেকগুলিকেই আকাশে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোনকে এমন এক অস্ত্র হিসেবে ধরা হয় যা কম উচ্চতায় উড়তে পারে এবং সহজে রাডারের নজর এড়াতে সক্ষম। এই ড্রোন প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরিমাণ কিছুটা কমেছে।
আমেরিকার সামরিক কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দিনের তুলনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্রায় ৮৬ শতাংশ কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার হাতে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক ক্ষমতা এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে। তবে এই অস্ত্রগুলি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সীমিত পরিমাণে উৎপাদিত হয়। তাই বর্তমানে আমেরিকা তুলনামূলক কম খরচের বোমা ও অস্ত্র ব্যবহারের পরিমাণ বাড়াচ্ছে।
অন্যদিকে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিশাল ভৌগোলিক এলাকা এবং ভূগর্ভে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডার এই সংঘাতকে দ্রুত শেষ হওয়া থেকে আটকাতে পারে।









