যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের পথে ইইউ
নুক/ব্রাসেলস: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেওয়ার এবং এর বিরোধিতা করা ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর ইউরোপ জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে দেখা যাচ্ছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সদস্য দেশগুলোকে আমেরিকার বিরুদ্ধে অভিন্ন অবস্থান নিতে সক্রিয়ভাবে উদ্যোগ নিচ্ছেন।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সংসদ সদস্যরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিকে অনুমোদন না দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই সংকটজনক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইইউর সভাপতিত্বকারী দেশ সাইপ্রাস ব্রাসেলসে অবস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদর দপ্তরে ইইউ রাষ্ট্রদূতদের এক জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সেই আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে, যারা গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন দখলের হুমকির বিরোধিতা করেছিল। এর ফলে গ্রিনল্যান্ডের নাগরিকদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
গ্রিনল্যান্ডে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ:
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গ্রিনল্যান্ডে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। শনিবার হাজার হাজার মানুষ রাজধানী নুকের ডাউনটাউন থেকে র্যালি করে মার্কিন কনস্যুলেট পর্যন্ত মিছিল করে। বিক্ষোভকারীরা জাতীয় পতাকা নেড়ে এবং আমেরিকা-বিরোধী পোস্টার হাতে প্রতিবাদ জানায়। পুলিশের মতে, এটি গ্রিনল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ, যেখানে নুক শহরের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ অংশ নিয়েছিল।
বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়’—এর মতো স্লোগান লেখা ব্যানার, যেখানে ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জরুরি বৈঠক:
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ইইউর সভাপতিত্বকারী দেশ সাইপ্রাস রাষ্ট্রদূতদের জরুরি বৈঠক ডেকেছে। অনেক সংসদ সদস্য বলছেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্থগিত হয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে ব্রিটেন স্পষ্ট জানিয়েছে যে তারা কোনো ধরনের সমঝোতা মেনে নেবে না। ইতালিও মার্কিন শুল্ক হুমকিকে অন্যায্য বলে অভিহিত করেছে।
আট ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক:
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, যা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা না হলে ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।








