কলকাতা: রবিবার সন্ধ্যায় দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার পর, সোমবার কলকাতার প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এটি নির্বাচনের ঘোষণা পরবর্তী প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছিল, যেখানে রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এক টেবিলের চারপাশে বসে একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি হলেন। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল আদর্শ আচরণবিধি এবং ভোট প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য, আসন্ন দুই ধাপের নির্বাচন স্বাধীন, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করা।
এই বৈঠকে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন শশী পানজা। প্রধান বিরোধী দল বিজেপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন তাপস রায় ও সঞ্জয় সিং। বামপন্থী দলগুলির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কল্লোল মজুমদার ও পালাশ দাস। জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে দুই ধাপে ভোটগ্রহণ হবে, প্রথম ধাপ ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় ধাপ ২৯ এপ্রিল। গণনা হবে ৪ মে। বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল যে, দেওয়াল লিখন থেকে শুরু করে প্রচারের সময়সীমা পর্যন্ত, সকল ক্ষেত্রে কমিশনের নির্দেশনার কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। বিশেষভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার এবং উস্কানিমূলক বার্তার উপর কড়া নজরদারি চালানোর কথাও জানানো হয়।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিজেপি এবং বামফ্রন্ট নেতৃত্ব বৈঠকে সংবেদনশীল বুথগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ করেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রচারের সময় সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছে যে, শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে প্রথম ধাপের ১৫২টি এবং দ্বিতীয় ধাপের ১৪২টি আসনের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বকে মাথায় রেখে স্বাধীন এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার বার্তা প্রদান করা হয়েছে।








