আইএফএফের প্রাক্তন মহাসচিব কুশল দাসের মৃত্যু

IMG-20260314-WA0033

নয়াদিল্লি: অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) তাদের প্রাক্তন মহাসচিব কুশল দাসের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। দাস ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এআইএফএফের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শুক্রবার ৬৬ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর পরিবারে স্ত্রী ও দুই পুত্র রয়েছেন।
পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট কুশল দাস ভারতীয় ফুটবলে ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনের বিস্তৃত অভিজ্ঞতা নিয়ে যুক্ত ছিলেন। তাঁর পেশাজীবনের শুরুতে তিনি পিডব্লিউসি ও শেল-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেন। ১৯৯৬ সালে যখন বৈশ্বিক ক্রীড়া বিপণন ও টেলিভিশন প্রোডাকশন সংস্থা আইএমজি ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করে, তখন তিনি সেখানে প্রধান আর্থিক আধিকারিক (সিএফও) হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর প্রধান আর্থিক আধিকারিক হিসেবেও কাজ করেন, যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রশাসনে তাঁর পরিচিতিকে আরও শক্তিশালী করে।
২০১০ সালের নভেম্বর মাসে তিনি এআইএফএফের মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই পদে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর কার্যকালের সময় দাস বহু গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ও কাঠামোগত পরিবর্তনের তত্ত্বাবধান করেন, যার ফলে ভারতে ফুটবলের পরিচিতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।
তাঁর নেতৃত্বে ভারত ২০১৭ সালের ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের সফল আয়োজন করে। এই সময়ে মহিলাদের ফুটবলও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করে এবং ২০১৭ সালে ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগ শুরু হয়। তাঁর কার্যকালের শেষ পর্যায়ে ভারত ২০২২ সালের এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও সফলভাবে আয়োজন করে।
এআইএফএফের সভাপতি কল্যাণ চৌবে বলেন, কুশল দাস এআইএফএফের মহাসচিব হিসেবে তাঁর সময়কালে ভারতীয় ফুটবলের প্রশাসন ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ভারতীয় ফুটবলের জন্য তাঁর প্রচেষ্টা সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ভারতীয় ফুটবল সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। ঈশ্বর তাঁর আত্মাকে শান্তি দিন।
এআইএফএফের উপ-মহাসচিব এম. সত্যনারায়ণ বলেন, কুশল দাসের মৃত্যুসংবাদ শুনে গভীরভাবে শোকাহত হয়েছি। তিনি এআইএফএফের দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী মহাসচিবদের একজন ছিলেন এবং ১২ বছরেরও বেশি সময় এই পদে ছিলেন। তাঁর সময়ে ফুটবল হাউসের প্রশাসনে বহু পরিবর্তন আসে এবং বহু নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্যক্তিগতভাবে বহুবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেয়েছি। তাঁর মৃত্যু ক্রীড়া প্রশাসনের ক্ষেত্রে বড় ক্ষতি। ঈশ্বর তাঁর আত্মাকে শান্তি দিন।

About Author

Advertisement