তিরুবনন্তপুরম: কেরলের পুন্নপ্রা এলাকার এক মহিলার পেটে অস্ত্রোপচারের পাঁচ বছর পর একটি শল্যচিকিৎসার যন্ত্র ‘আর্টারি ফোর্সেপস’ পাওয়া যাওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। পরিবারের দাবি, উষা জোসেফের মে ২০২১ সালে আলাপ্পুঝা মেডিক্যাল কলেজ-এ জরায়ুতে সৃষ্ট ‘ফাইব্রয়েড’ অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।
আলাপ্পুঝা মেডিক্যাল কলেজের কর্তৃপক্ষ শুক্রবার এই ঘটনায় শল্যচিকিৎসাজনিত ত্রুটির কথা স্বীকার করেছে। মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. বি. পদ্মকুমার, সুপারিন্টেনডেন্ট ডা. হরিকুমার এবং উপ-সুপারিন্টেনডেন্ট ডা. থমাস কোশি এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, কোভিড-১৯ সময়কালে ১২ মে ২০২১ তারিখে উষা জোসেফের জরায়ুর ‘ফাইব্রয়েড’ অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পর উষাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করেননি। পরে এক ইউরোলজিস্টের পরামর্শে ‘আর্টারি ফোর্সেপস’-এর বিষয়টি জানা যায়। এক্স-রে করানোর পর তাঁর পেটে যন্ত্রটি ধরা পড়ে। এরপর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকেরা সেটি অপসারণের জন্য তাঁকে পরের সপ্তাহে আসতে বলেন। কিন্তু পরিবার কোচির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এ বিষয়ে চার সদস্যের একটি চিকিৎসক দল গঠন করে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদন রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে এবং তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহিলার পুত্রের বক্তব্য:
উষার পুত্র শিবিন জানান, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তাঁর মা ক্রমাগত পেটের ব্যথায় ভুগছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বহুবার হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলেও ব্যথার কারণ নির্ণয় করা যায়নি। সম্প্রতি এক চিকিৎসক কিডনিতে পাথর থাকার সন্দেহ প্রকাশ করলে এক্স-রে করা হয় এবং তাতেই ‘আর্টারি ফোর্সেপস’ ধরা পড়ে।
শিবিন আরও জানান, হাসপাতালের চিকিৎসকেরা যন্ত্রটি অপসারণের জন্য পরের সপ্তাহে আসতে বলেছিলেন। কিন্তু কোনও ঝুঁকি নিতে না চেয়ে তাঁরা কোচি-র একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করান। পরবর্তীতে তাঁরা অম্বালাপুঝা পুলিশ স্টেশন-এ অভিযোগ দায়ের করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য:
কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভীনা জর্জ জানান, যাঁরা ওই অস্ত্রোপচারে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে সরকারি পরিষেবায় কর্মরত আছেন, তাঁদের তদন্তের স্বার্থে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং চিকিৎসা শিক্ষা পরিচালকের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
বিরোধী নেতারাও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যনীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁরা দোষী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।










