কলকাতা: অবৈধ বালি ও কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলার তদন্তে মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লিতে একযোগে একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়েছে প্রবর্তন নির্দেশালয় (ইডি)। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতায় ইডির দলগুলি সকাল প্রায় সাড়ে ছয়টা থেকে দিল্লি, কলকাতা, আসানসোল, দুর্গাপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
তল্লাশি চালানো স্থানগুলির মধ্যে আসানসোলের বুদবুদ থানার নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি) মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাসভবনও রয়েছে। এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানিয়েছেন, অবৈধ বালি ও কয়লা ব্যবসা সংক্রান্ত মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মনোরঞ্জন মণ্ডলকে গত বছর দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছিল, যখন তিনি বারাবানি থানায় কর্মরত ছিলেন। পরে তাঁকে আসানসোল পুলিশের বিশেষ শাখার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তিনি এখনও বুদবুদ থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। ইডির অভিযানের পর তাঁর সাম্প্রতিক নিয়োগও তদন্তের আওতায় এসেছে।
ইডি এলাকার একাধিক বালি ও কয়লা ব্যবসায়ীর বাড়ি ও কার্যালয়েও তল্লাশি চালিয়েছে। দুর্গাপুরের সেপকো এলাকায় ‘কেকে মিনারেলস’-এর মালিক ও বালি ব্যবসায়ী প্রবীর দত্ত এবং তাঁর ভাই অমিত দত্তের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। ওই সংস্থা বাঁকুড়া এবং পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমান জেলায় বালি খনির কার্যক্রম পরিচালনা করে।
এছাড়াও পানাগড়ে বালি ব্যবসায়ী শেখ হাসিম মির্জা বেগ, অন্ডালের ভক্তারনগরে শেখ কিরণ মণ্ডল এবং পাণ্ডবেশ্বরে কয়লা ব্যবসায়ী শেখ মাইজুলের বাড়িতেও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। কলকাতা ও দিল্লির অন্যান্য স্থানেও অভিযান চলতে থাকার খবর পাওয়া গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, এই মামলাটি ইডির তদন্তাধীন আরেকটি কথিত কয়লা কেলেঙ্কারির থেকে আলাদা, যেখানে সম্প্রতি কলকাতার রাজনৈতিক পরামর্শ সংস্থা ‘আই-প্যাক’-এর দফতরে অভিযান চালানো হয়েছিল।










