নয়াদিল্লি: দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে টানা দরপতনের জেরে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে। মঙ্গলবার দেশটির প্রধান শেয়ারবাজার সূচক কোস্পি ৭ শতাংশেরও বেশি কমে যায়। তীব্র দরপতনের কারণে কিছু সময়ের জন্য লেনদেনও বন্ধ রাখতে হয়। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত পাঁচটি লেনদেনের দিনে কোস্পি সূচক প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে।
চলতি বছরে বিশ্বের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স করা শেয়ারবাজারগুলোর মধ্যে ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু বর্তমানে বাজারের এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চীনের মেমোরি চিপ শিল্পের অগ্রগতিকে দেখা হচ্ছে। চীনা সংস্থাগুলো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিপ নির্মাতাদের সঙ্গে প্রযুক্তিগত ব্যবধান ক্রমশ কমিয়ে আনছে। ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান সেমিকন্ডাক্টর সংস্থাগুলোর ভবিষ্যৎ আয় এবং বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে।
চীনা চিপ সংস্থাগুলোর অগ্রগতিতে বাড়ছে চাপ
মার্কিন মেমোরি চিপ নির্মাতা সংস্থা মাইক্রন টেকনোলজির শেয়ারের দাম সোমবার কমে যাওয়ার প্রভাবও দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে পড়েছে। একই সময়ে, চীনা চিপ নির্মাতা সংস্থা সিএক্সএমটি প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি করেছে, তা বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপ শিল্পে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মেমোরি চিপ উৎপাদনের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স এবং এসকে হাইনিক্সের মতো সংস্থার বিশ্ববাজারে শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। তবে চীনা সংস্থাগুলো যদি তুলনামূলক কম খরচে প্রতিযোগিতামূলক চিপ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়, তাহলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থাগুলোর বাজারের অংশীদারত্ব, মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা এবং মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। এই আশঙ্কাতেই বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে।
তীব্র পতনের পর পাঁচ মিনিটের জন্য বন্ধ লেনদেন
স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪৭ মিনিটে কোরিয়া এক্সচেঞ্জ কোস্পি ২০০ ফিউচার্স সূচকের স্বয়ংক্রিয় বিক্রয়াদেশ পাঁচ মিনিটের জন্য স্থগিত করে। সেই সময় সূচকটি ৫.০৮ শতাংশ বা ৫১.২০ পয়েন্ট কমে ৯৫৫.০২-এ নেমে আসে।
টানা পঞ্চম লেনদেনের দিনেও পতন অব্যাহত থাকায়, সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৪-এর পর এটি ছিল ওই সূচকের পতনের দীর্ঘতম ধারাবাহিক পর্যায়।
বড় সংস্থাগুলোর শেয়ারে ব্যাপক দরপতন
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান সংস্থাগুলোর শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় স্পষ্ট হয়েছে যে বাজারের চাপ শুধু প্রযুক্তি ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই।
- স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স: ৭.৩৯ শতাংশ পতন।
- এসকে হাইনিক্স: ১০ শতাংশেরও বেশি পতন।
- এলজি এনার্জি সলিউশন: ৪.১৫ শতাংশ পতন।
- হুন্ডাই মোটর: ৫.৭৮ শতাংশ পতন।
- কিয়া কর্পোরেশন: ৩.৫২ শতাংশ পতন।
- পোসকো হোল্ডিংস: ৪.৮৫ শতাংশ পতন।
- স্যামসাং বায়োলজিকস: ১ শতাংশ পতন।
বিশেষ করে মেমোরি চিপ নির্মাতা সংস্থাগুলোর শেয়ারে বড় ধরনের পতন দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
বিশ্ববাজারে কী প্রভাব পড়তে পারে?
চীনের চিপ শিল্পের অগ্রগতি বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর বাজারের প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে পারে। চীনা নির্মাতারা প্রযুক্তি, উৎপাদন ক্ষমতা এবং খরচের দিক থেকে আরও এগিয়ে গেলে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলোকে নিজেদের বাজারের অংশীদারত্ব ধরে রাখতে দাম, গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হতে পারে।
তবে শেয়ারবাজারের এই পতনের জন্য শুধু চীনের অগ্রগতিকে দায়ী করা ঠিক হবে না। মার্কিন চিপ সংস্থার শেয়ারের দুর্বলতা, বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা এবং বিশ্ব প্রযুক্তি বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতিও এই পতনে প্রভাব ফেলতে পারে।
উপসংহার
দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে তীব্র পতন বিশ্বব্যাপী চিপ শিল্পে বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতা এবং বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের প্রতিফলন। চীনের সিএক্সএমটি যদি প্রযুক্তিগত ব্যবধান ক্রমাগত কমিয়ে আনতে পারে, তাহলে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের মতো প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলোর ওপর প্রতিযোগিতামূলক চাপ বাড়তে পারে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব চিপ শিল্পের ক্ষমতার ভারসাম্য কীভাবে বদলাবে, তা নির্ভর করবে পণ্যের গুণমান, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, উৎপাদন খরচ এবং বাজারের চাহিদার ওপর।





