নেশামুক্ত সমাজ গঠনে শিলিগুড়ি পুলিশের সক্রিয়তা

0d081248-2a93-42f7-b9f4-3cc6aad84504

জনসচেতনতা অভিযান ইতিবাচক, ধারাবাহিকতাই বড় চ্যালেঞ্জ

শিলিগুড়ি: মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের অধীন মাটিগাড়া থানার উদ্যোগে আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একটি নেশামুক্তি সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সমাজে ক্রমবর্ধমান মাদকাসক্তি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং নেশামুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে পুলিশের জনমুখী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাদকদ্রব্যের সেবনের ফলে ব্যক্তি, পরিবার ও সামগ্রিক সমাজের উপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, সে সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাই এই ধরনের কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য। বিশেষত, স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করা হলে মাদকাসক্তি প্রতিরোধে সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়ানোর পাশাপাশি সমস্যাটিকে প্রাথমিক পর্যায়েই চিহ্নিত করতে সহায়তা মিলতে পারে।
তবে শিলিগুড়ি পুলিশের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক হলেও নেশামুক্ত সমাজ গঠনের জন্য শুধুমাত্র সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন যথেষ্ট নয়। মাদকাসক্তির কারণ, এর সামাজিক প্রভাব এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তাকেও এই অভিযানের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলতে হবে। পুলিশের সক্রিয়তার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, সামাজিক সংগঠন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলাও জরুরি।
একইভাবে, মাদকদ্রব্যের অবৈধ কারবার নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা যুবসমাজকে চিহ্নিত করা, কাউন্সেলিং পরিষেবা, চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন কর্মসূচিকে সমান গুরুত্ব দিতে পারলেই জনসচেতনতা অভিযানের দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া সম্ভব। মাদকাসক্তিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শুধুমাত্র অপরাধের দৃষ্টিতে না দেখে তাঁদের চিকিৎসা, পরামর্শ এবং সামাজিক পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আঠারোখাই এলাকায় মাটিগাড়া পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচি সমাজের সর্বস্তরে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। তবে এই উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য কেবল কর্মসূচি আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং সাধারণ মানুষের আচরণে কী পরিবর্তন আসছে এবং মাদকাসক্তি নিয়ন্ত্রণে কতটা বাস্তব অগ্রগতি হচ্ছে, তার ভিত্তিতেই এই উদ্যোগের সাফল্য মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
অতএব, শিলিগুড়ি পুলিশের এই ধরনের সক্রিয়তাকে নিয়মিত জনসচেতনতা অভিযান, কার্যকর মাদক নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তবেই নেশামুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যকে বাস্তব ও কার্যকর রূপ দেওয়া সম্ভব হবে।

About Author

Advertisement