কলকাতা: ভারতীয় বৈদ্যুতিক দ্বিচক্রযান নির্মাতা সংস্থা আল্ট্রাভায়োলেট কলকাতা পুলিশের যানবাহনের বহরে তাদের ‘এক্স–৪৭ ক্রসওভার’ বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল অন্তর্ভুক্ত করার কথা ঘোষণা করেছে। পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য বিশেষভাবে তৈরি বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
লালবাজারে অবস্থিত কলকাতা পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ১৮৩টি ‘এক্স–৪৭ স্কাইফোর্স’ মোটরসাইকেল কলকাতা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সংস্থার দাবি, ভারতে কোনো পুলিশ সংস্থার বহরে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে এটি অন্যতম বৃহৎ উদাহরণ।
এর মাধ্যমে আল্ট্রাভায়োলেট দাবি করেছে, পুলিশি পরিষেবার জন্য বিশেষভাবে তৈরি বৈদ্যুতিক দ্বিচক্রযান সরবরাহকারী হিসেবে তারাই প্রথম নির্মাতা। ‘এক্স–৪৭ স্কাইফোর্স’-কে বিশেষভাবে পুলিশি টহল ও দৈনন্দিন কার্যক্রমের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
পুলিশি ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি
আল্ট্রাভায়োলেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণ সুব্রহ্মণ্যম বলেন, পুলিশি পরিষেবার জন্য বিশেষভাবে তৈরি অত্যাধুনিক মোটরসাইকেলের নতুন সংস্করণ উন্মোচন করতে পেরে সংস্থা গর্বিত।

তাঁর মতে, ‘এক্স–৪৭ স্কাইফোর্স’ পুলিশ কর্মকর্তাদের দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের কার্যকরী ও অপারেশনাল প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যায়, এমনভাবেই এর কাঠামো তৈরি করা হয়েছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সুব্রহ্মণ্যম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দিনরাত কাজ করা পুলিশ কর্মকর্তাদের আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সহায়তা করতে পারা সংস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তাঁর মতে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরিবর্তিত চাহিদা ও বহুমুখী কার্যক্রমের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো করে ‘এক্স–৪৭ স্কাইফোর্স’-এর নকশা করা হয়েছে।
সাইরেন থেকে ওয়াকি-টকি পর্যন্ত সরঞ্জাম সংযুক্ত করা যাবে
কলকাতা পুলিশের নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে ‘এক্স–৪৭ স্কাইফোর্স’-এ উন্নত বৈদ্যুতিক ও প্রযুক্তিগত কাঠামো যুক্ত করা হয়েছে। এতে পুলিশের দৈনন্দিন ডিউটিতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম সহজেই সংযুক্ত করা যাবে।
মোটরসাইকেলে সাইরেন, হুটার, পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম, সরকারি ডেকাল ও স্টিকার, এলইডি ব্লিঙ্কার, মাইক হোল্ডার, ওয়াকি-টকি হোল্ডার এবং সাইড প্যানিয়ার-এর মতো সরঞ্জাম সংযুক্ত করা যায়। ডিউটির সময় প্রয়োজনীয় সামগ্রী সাইড প্যানিয়ারে রাখা সম্ভব।
পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আগে মোটরসাইকেলগুলোর ব্যাপক পরীক্ষা করা হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। পরীক্ষার পর বৈদ্যুতিক, সংযুক্ত এবং পুলিশি কাজের উপযোগী নতুন প্রজন্মের যানবাহন হিসেবে এগুলোকে কাজে লাগানো হচ্ছে।
দৈনন্দিন টহলে ব্যবহার
‘এক্স–৪৭ স্কাইফোর্স’ এখন কলকাতা পুলিশের দৈনন্দিন ডিউটির অংশ হয়ে উঠেছে। সংস্থার দাবি, এর ব্যবহার শুধু আনুষ্ঠানিক বা প্রতীকী কাজে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
টহলদারির জন্য তৈরি এই সংস্করণটি পুলিশের দৈনন্দিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল শহুরে পরিবেশে পুলিশের প্রয়োজনীয় দ্রুত চলাচল, বহুমুখী ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বহনের সক্ষমতা এতে রাখা হয়েছে।
গতি, দীর্ঘপথ চলা ও সহজ পরিচালনায় গুরুত্ব
আল্ট্রাভায়োলেটের কর্মক্ষমতাকেন্দ্রিক প্রকৌশলের ভিত্তিতে তৈরি ‘এক্স–৪৭’-এ দ্রুত গতি, উচ্চ কর্মক্ষমতা, দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমের সক্ষমতা এবং ব্যবহারিক সুবিধার সমন্বয় রয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
এর ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো, সহজে দিক পরিবর্তন করা এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মোটরসাইকেলটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে দাবি করা হয়েছে।
এর ক্রসওভার কাঠামো বিভিন্ন ধরনের শহুরে রাস্তা ও পরিস্থিতিতে সহজে চলাচলের পাশাপাশি ডিউটির সময় প্রয়োজনীয় সামগ্রী বহনে সহায়তা করে। দীর্ঘ সময় ডিউটিতে থাকা পুলিশকর্মীদের সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে মোটরসাইকেলটির এরগোনমিক নকশা, শক্তি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আরামদায়ক রাইডিং অভিজ্ঞতা তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশি কার্যক্রমে বৈদ্যুতিক মোবিলিটির প্রসার
‘এক্স–৪৭ স্কাইফোর্স’-কে কলকাতা পুলিশের বহরে অন্তর্ভুক্ত করাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিক মোবিলিটির ব্যবহার সম্প্রসারণের পথে একটি পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি সংস্থাগুলি তাদের বাস্তব অপারেশনাল প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে ভবিষ্যৎমুখী যানবাহন গ্রহণ করতে পারে—তারও একটি সম্ভাবনা সামনে এসেছে। একই সঙ্গে, ভারতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো এবং স্মার্ট ও টেকসই শহুরে মোবিলিটি ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার সঙ্গেও এই পদক্ষেপটি যুক্ত।
বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল ব্যবহারের ফলে পুলিশ সংস্থার পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমতে পারে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। ফলে পরিবেশগত দিকের পাশাপাশি অপারেশনাল ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও এর গুরুত্ব রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৮৩টি ‘এক্স–৪৭ স্কাইফোর্স’ কলকাতা পুলিশের বহরে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনী প্রযুক্তিনির্ভর ও ভবিষ্যৎমুখী বৈদ্যুতিক মোবিলিটির ব্যবহারে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। আল্ট্রাভায়োলেটের কাছে এই প্রকল্পটি ভারতীয় পুলিশের দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্র ও বাস্তব প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে তৈরি বিশেষ বৈদ্যুতিক ‘ট্যাকটিক্যাল’ মোটরসাইকেলের একটি নতুন প্রয়োগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।





