– দেশবন্ধু বিশ্বামিত্র
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত গত কয়েক মাসে নতুন ও জটিল রূপ নিয়েছে। ইরান সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, কাতারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট অবকাঠামোকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে। এসব হামলায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটির রাডার, বিমান, জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন সরকারি নজরদারিসংক্রান্ত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে শত শত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একইভাবে, ত্রিশটি পর্যন্ত এমকিউ–নাইন রিপার ড্রোন এবং সাতটি কেসি–একশ পঁয়ত্রিশ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময়ে বারোজন মার্কিন সেনা নিহত এবং যুদ্ধের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যয় প্রায় সাঁইত্রিশ বিলিয়ন পাঁচ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ইরান কীভাবে মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর ওপর এত নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম হলো?
প্রাথমিক পর্যায়ে ধারণা করা হচ্ছিল, চীনের কাছ থেকে পাওয়া বাণিজ্যিক বা সরকারি উপগ্রহচিত্র ইরানকে এ ক্ষেত্রে সহায়তা করছে। কিন্তু সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা মূল্যায়নে রাশিয়ার কাছ থেকে পাওয়া ভূ–স্থানিক ও উপগ্রহভিত্তিক তথ্যের ভূমিকার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ মার্চ মাসে তিনজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমানের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য ইরানকে সরবরাহ করেছে।
প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি : উপগ্রহ তথ্য ও নিখুঁত হামলার উদাহরণ
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কাছে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি সাম্প্রতিক সংঘাতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মার্চের শেষ দিকে ইরানের হামলায় এই ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মার্কিন সেনারা আহত হন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে অন্তত দশজন মার্কিন সেনা আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তী প্রতিবেদনে এই সংখ্যা বারো পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানা যায়।
এই ঘটনাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে রুশ উপগ্রহের কার্যক্রম নিয়ে ওঠা তথ্য। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, একুশ থেকে একত্রিশ মার্চের মধ্যে রুশ উপগ্রহগুলো মধ্যপ্রাচ্যের এগারোটি দেশে অন্তত চব্বিশবার বিস্তারিত নজরদারি চালিয়েছিল। এসব নজরদারি অভিযানে ছেচল্লিশটি সামরিক ও কৌশলগত স্থানের শনাক্তকরণের কথা বলা হয়েছে। প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিও এর মধ্যে ছিল।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ওই এলাকার ছবি নেওয়া হয় এবং হামলার পর আবারও একই এলাকার ওপর নজরদারি চালানো হয়।
এই ঘটনা আধুনিক যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করে—উপগ্রহ থেকে পাওয়া তথ্য এখন আর শুধু কৌশলগত নজরদারির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণেও তা ব্যবহার করা হতে পারে।
রাশিয়ার ভূমিকা : সরাসরি যুদ্ধে প্রবেশ, নাকি কৌশলগত সহযোগিতা?
রাশিয়া ইরানকে ঠিক কতটা সহযোগিতা দিয়েছে, তার প্রকৃত পরিধি এখনও পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে রুশ সহযোগিতার সম্ভাবনাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ইউক্রেনীয় মূল্যায়ন অনুযায়ী, রুশ উপগ্রহ শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ওপর নজরদারি করেনি; বিমানবন্দর, তেলসম্পর্কিত অবকাঠামো এবং অন্যান্য কৌশলগত স্থানের ওপরও নজরদারি চালিয়েছে।
রয়টার্স এটিকে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান গোয়েন্দা ও সাইবার সহযোগিতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা প্রয়োজন। কোনো একটি এলাকার উপগ্রহচিত্র ধারণ করা এবং সেই ছবি ইরানকে সরবরাহ করা—এই দুটি দাবির প্রমাণের মাত্রা এক নয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো থেকে রুশ উপগ্রহের লক্ষ্যভিত্তিক নজরদারির ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও প্রতিটি ইরানি হামলার সাফল্য শুধুমাত্র রুশ তথ্যের কারণে হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রকাশ্য প্রমাণ এখনও নেই।
ইরানের নিজস্ব গোয়েন্দা ব্যবস্থা, ড্রোন, রাডার নজরদারি, মানব গোয়েন্দা উৎস এবং ক্ষেপণাস্ত্র নির্দেশনা ব্যবস্থাও রয়েছে।
ইরানের বদলে যাওয়া যুদ্ধকৌশল
ইরানি হামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো লক্ষ্য নির্বাচন। বড় এলাকা বা সম্পূর্ণ সামরিক কমপ্লেক্স ধ্বংস করার পরিবর্তে রাডার, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, বিমান, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর মতো উচ্চমূল্যের সামরিক সম্পদ অকার্যকর করার কৌশল দেখা যাচ্ছে।
‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর উপগ্রহ বিশ্লেষণে পনেরোটি মার্কিন অবস্থানে দুইশ আটাশটি অবকাঠামো বা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এর মধ্যে ব্যারাক, জ্বালানি সংরক্ষণাগার, রাডার, উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিমান অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই ধরনের কৌশলের উদ্দেশ্য শুধু ভৌত ক্ষতি করা নয়; মার্কিন সামরিক অভিযানের গতি ও কার্যকারিতাকেও প্রভাবিত করা। কোনো সামরিক ঘাঁটির রানওয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস না হলেও রাডার, জ্বালানি ব্যবস্থা, বিমান বা যোগাযোগকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই ঘাঁটির তাৎক্ষণিক কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।
মার্কিন সামরিক উপস্থিতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো মার্কিন বিমান, নৌ ও গোয়েন্দা কার্যক্রমকে সহায়তা করে।
কিন্তু ইরানের হামলা একটি পুরোনো সামরিক ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে—বড় এবং অত্যাধুনিক সামরিক ঘাঁটি নিজে থেকেই নিরাপদ।
আধুনিক ড্রোন ও নিখুঁতভাবে নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র বড় সামরিক কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা নির্দিষ্ট ও সংবেদনশীল লক্ষ্য শনাক্ত করে আঘাত করতে সক্ষম।
এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে তার বিমান, জ্বালানি ভাণ্ডার, রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত না রেখে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিতে হতে পারে। ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ব্যবহার, অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন এবং বিকল্প সরবরাহপথ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্যও বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ
এই সংঘাতের প্রভাব শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ নয়। মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে সমর্থনকারী বা তার সঙ্গে যুক্ত আঞ্চলিক অবকাঠামোগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামনে একটি জটিল নিরাপত্তা ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। একদিকে তারা মার্কিন নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের ওপর নির্ভরশীল, অন্যদিকে তারা চায় না যে তাদের ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাতের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হোক।
এই কারণে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তাই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তাও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। ইরানি হামলার কারণে বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিজিটাল এবং ক্লাউড অবকাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
রাশিয়ার জন্য কৌশলগত সুযোগ
রাশিয়ার সম্ভাব্য সহযোগিতাকে শুধু যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাতের একটি ঘটনা হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে বৃহত্তর ভূ–রাজনৈতিক প্রতিযোগিতারও সম্পর্ক রয়েছে।
গত কয়েক বছরে রাশিয়া ও ইরান নিরাপত্তা ও সামরিক ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইরানি ড্রোন ও রুশ সামরিক প্রযুক্তির মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক আলোচনায় রয়েছে।
ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে তীব্র কৌশলগত প্রতিযোগিতার সময় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়া মস্কোর জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এটিকে শুধু ‘প্রতিশোধ’ বা একটি মাত্র কারণের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা না করে রাশিয়ার বৃহত্তর নিরাপত্তা, জ্বালানি ও ভূ–রাজনৈতিক স্বার্থের প্রেক্ষাপটে দেখা অধিক যুক্তিযুক্ত।
যুদ্ধের পরবর্তী দিক
ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধকৌশল একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—মধ্যপ্রাচ্যের আধুনিক যুদ্ধ এখন আর শুধু বিমান, ট্যাংক বা বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হবে না।
উপগ্রহ তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সক্ষমতা, ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ্য শনাক্ত করার প্রযুক্তি যুদ্ধের চরিত্র বদলে দিচ্ছে।
মার্কিন সামরিক শক্তি এখনও অত্যন্ত বিস্তৃত ও শক্তিশালী। তবে ইরান তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ব্যয়বহুল সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার সক্ষমতা দেখিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে মার্কিন কৌশলের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হবে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং তুলনামূলক কম ব্যয়ের আক্রমণাত্মক ব্যবস্থার মধ্যে তৈরি হওয়া ব্যয়ের অসামঞ্জস্য।
একইভাবে, যদি রাশিয়া সত্যিই ইরানকে উচ্চমানের উপগ্রহ তথ্য সরবরাহ করে থাকে, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়া সম্পর্কের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। এই ধরনের সহযোগিতা যদি ধারাবাহিক ও প্রাতিষ্ঠানিক হওয়ার আরও প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু আঞ্চলিক যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও অন্যান্য শক্তির মধ্যে বৃহত্তর কৌশলগত প্রতিযোগিতার আরেকটি ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
উপসংহার
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলাকে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়। এসব ঘটনা আধুনিক যুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য, উপগ্রহ, ড্রোন এবং নিখুঁত লক্ষ্য নির্ধারণের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব সামনে নিয়ে এসেছে।
প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলা এবং তার আগে রুশ উপগ্রহের নজরদারি সম্পর্কিত তথ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে রুশ সহযোগিতার প্রকৃত পরিধি এবং প্রতিটি ইরানি হামলায় তার ভূমিকা এখনও স্বাধীনভাবে পুরোপুরি প্রমাণিত হয়নি। প্রকাশ্য তথ্য অবশ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে।
এই সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মার্কিন সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তার চেয়ে অনেক বড় হতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক বাণিজ্য, আঞ্চলিক জোট, সামরিক ঘাঁটির কাঠামো এবং মহাকাশভিত্তিক গোয়েন্দা ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
তাই আগামী দিনে প্রধান প্রশ্ন শুধু এই হবে না—“কে কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল?”
প্রশ্নটি আরও বড়—
“কে কাকে কতটা নিখুঁত তথ্য দিতে পারে, এবং সেই তথ্যকে কত দ্রুত সামরিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে?”
মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো এবং বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে পরিবর্তিত কৌশলগত প্রতিযোগিতার দিক বোঝার ক্ষেত্রে এই প্রশ্নই ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।





