সৌদির পারমাণবিক বাজারে মার্কিন দাও, চীন–রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতা তীব্র

IMG-20260826-WA0049

ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি চুক্তি কংগ্রেসে পেশ করার পর পশ্চিম এশিয়ার জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
৩০ বছরের জন্য প্রস্তাবিত ‘১২৩ চুক্তি’ কার্যকর হলে মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবে এপি–১০০০ প্রযুক্তিনির্ভর পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর নির্মাণ এবং পারমাণবিক অবকাঠামো উন্নয়নে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। এটিকে মার্কিন পারমাণবিক শিল্পের জন্য বড় বাণিজ্যিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সৌদি আরব তেলের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে ‘ভিশন ২০৩০’ কৌশলের আওতায় বিকল্প জ্বালানির সম্প্রসারণে কাজ করছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেশটি বৃহৎ পরিসরে বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি উন্নয়ন করতে চায়। এই ক্ষেত্রে চীন ও রাশিয়া ইতিমধ্যেই সক্রিয়।
রাশিয়ার রোসাটম এবং চীনের সরকারি জ্বালানি কোম্পানিগুলো বিভিন্ন দেশে পারমাণবিক প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রও সৌদি আরবের বাজারে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে তিন শক্তির মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে।
তবে চুক্তিটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে না। মার্কিন কংগ্রেস ৯০ দিন ধরে এর পর্যালোচনা করবে। এই সময়ের মধ্যে আইনপ্রণেতারা কোনো বাধা না দিলে চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে।
তবে চুক্তিটির রাজনৈতিক দিক এখনও জটিল। ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্তের সঙ্গে যুক্ত করেছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের বক্তব্য হলো- স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়া এগিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে না।

About Author

Advertisement