ম্যাকাই (অস্ট্রেলিয়া): শনিবার শুরু হওয়া অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিনে পেসারদের আধিপত্য দেখা গেছে। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায়। টেস্ট ক্রিকেটে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।
অস্ট্রেলিয়াও বাজেভাবে ইনিংস শুরু করে এবং প্রথম দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকরা তাদের প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে। দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় ক্যামেরন গ্রিন (অপরাজিত ৫১) ও নাথান লায়ন (অপরাজিত ১০) ক্রিজে ছিলেন। প্রথম ইনিংসের হিসেবে অস্ট্রেলিয়া এখন ১০১ রানে এগিয়ে আছে। দিনের খেলায় মোট ১৮টি উইকেট পড়ে, যার মধ্যে ১৭টিই নেন পেসাররা।
গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ বিপর্যয়কর শুরুর মুখে পড়ে; এক পর্যায়ে মাত্র ১২ রানেই তারা পাঁচটি উইকেট হারিয়ে বসে। অস্ট্রেলীয় পেসার মিচেল স্টার্ক বাংলাদেশের টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দিয়ে রীতিমতো তাণ্ডব চালান এবং ম্যাচে সর্বোচ্চ ছয়টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স তিনটি ও জশ হ্যাজলউড দুটি উইকেট নেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশের প্রথম সারির ছয়জন ব্যাটারের মধ্যে চারজনই কোনো রান না করেই আউট হন।
১১ নম্বর অবস্থানে ব্যাট করতে নামা শরিফুল ইসলাম সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম প্রত্যেকে ১১ রান করে সংগ্রহ করেন।
প্রতিপক্ষ দলকে ৬৪ রানে অলআউট করার পর অস্ট্রেলিয়াও তাদের প্রথম ইনিংসে বাজেভাবে শুরু করে। বাংলাদেশের ফাস্ট বোলার শরিফুল ইসলাম দুর্দান্ত বোলিং করে স্বাগতিক দলকে বিপাকে ফেলে দেন; তিনি ছয়টি উইকেট শিকার করেন। এক পর্যায়ে মাত্র ৪১ রানেই অস্ট্রেলিয়া তিনটি উইকেট হারিয়ে বসে। ট্রাভিস হেড (২২), ম্যাট রেনশ (৮) এবং মারনাস লাবুশেন (৪)—সবাই আউট হয়ে যান।
এরপর ইনিংসের গতি সামাল দিতে অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভ স্মিথের সঙ্গে জুটি বাঁধেন গ্রিন। চতুর্থ উইকেটে এই জুটি ৭৭ রানের একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে। স্মিথকে আউট করে শরিফুল এই জুটি ভাঙেন; এরপর নিয়মিত বিরতিতে অস্ট্রেলিয়ার উইকেট পড়তে থাকে। স্মিথ ছয়টি বাউন্ডারিসহ মোট ৪২ রান সংগ্রহ করেন।
গ্রিন এক প্রান্ত আগলে রাখলেও অন্য প্রান্তে দ্রুত বিরতিতে আউট হন অ্যালেক্স ক্যারি, বো ওয়েবস্টার, অধিনায়ক কামিন্স ও মিচেল স্টার্ক। এদের মধ্যে ওয়েবস্টার ও কামিন্স রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন। শেষ পর্যন্ত গ্রিন ও লায়ন মিলে দিনের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান। গ্রিন এখন পর্যন্ত ৮১টি বল মোকাবেলা করে আটটি চার মেরেছেন।











