উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা সীমান্ত অতিক্রম করে; দক্ষিণ কোরিয়ার সৈন্যরা সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে
নয়াদিল্লি: গত সপ্তাহে ‘মিলিটারি ডিমারকেশন লাইন’ (এমডিএল) বা সামরিক সীমানা রেখা অতিক্রম করার সময় বেশ কয়েকজন উত্তর কোরীয় সেনাকে শনাক্ত করার পর দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী সতর্কতামূলক গুলি চালায়। রবিবার দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। সতর্কবার্তা পাওয়ার পর উত্তর কোরীয় সৈন্যরা সীমান্তের নিজেদের দিকে ফিরে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ রবিবার জানিয়েছে যে, উত্তর কোরীয় সেনাদের সীমান্ত লঙ্ঘনের কারণে এই সতর্কতামূলক গুলি চালানো হয়েছিল এবং সেনাবাহিনী তাদের কার্যকলাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তে ঘটনা
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের সম্মুখসারির একটি এলাকায় ঘটেছে। উত্তর কোরীয় সৈন্যদের একটি দল স্বল্প সময়ের জন্য ‘মিলিটারি ডিমারকেশন লাইন’ বা সামরিক সীমানা রেখা অতিক্রম করে দক্ষিণের অংশে প্রবেশ করেছিল। দক্ষিণ কোরীয় সেনাবাহিনী নির্ধারিত নিয়মকানুন বা প্রোটোকল অনুযায়ী সতর্কবার্তা জারি করে এবং সতর্কতামূলক গুলি চালায়। সৈন্যরা ফিরে যাওয়ার পর ওই এলাকায় আর কোনো অস্বাভাবিক কার্যকলাপের খবর পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক পর্যালোচনায় ধারণা করা হচ্ছে যে, নিয়মিত টহলের সময় সৈন্যরা ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করে ফেলেছিল।
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যবর্তী ডিএমজেড কী?
দুটি দেশকে পৃথককারী ‘সামরিক-মুক্ত অঞ্চল’ বা ডিএমজেড-এর ঠিক মাঝখান দিয়ে ‘সামরিক সীমানা রেখা’ বা এমডিএল অতিক্রম করেছে। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, এই সীমান্তরেখাটি তারই একটি অংশ। আজ পর্যন্ত দেশ দুটির মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, এমডিএল-এর দিকে এগিয়ে আসা সৈন্যদের প্রথমে সতর্কতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে পিছু হটার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সীমান্ত অতিক্রম করলে সতর্কতামূলক গুলি চালানো হয়।
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়াকে কেন্দ্র করে এ বছরের প্রথম ঘটনা
চলতি বছরে এটিই প্রথম জানা ঘটনা, যেখানে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা সীমান্ত অতিক্রম করার পর দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী সতর্কতামূলক গুলি চালিয়েছে। ২০২৪ সালে এর আগে সামরিক সীমানা রেখা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা প্রকাশ্যে আসেনি। কোরিয় উপদ্বীপে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই ঘটনাটি ঘটল।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে-মিউং সম্প্রতি আলোচনা পুনরায় শুরু করা এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন, তবে পিয়ংইয়ং এখনও এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার আগের ঘটনা
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ আগামী দিনগুলোতে শুরু হতে যাচ্ছে।
উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে এই সামরিক মহড়ার সমালোচনা করে আসছে। তবে কোনো সংঘর্ষ বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বজায় রেখেছে।










