ডারউইন: নিজেদের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক জয় তুলে নিতে বাংলাদেশ দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছে। রবিবার প্রথম টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে নয় উইকেটে পরাজিত করেছে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি তাদের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট জয়।
এর আগে, ২০১৭ সালের আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে পরাজিত করেছিল। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচটি ২২ আগস্ট শুরু হবে।
মারাড়া স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রান সংগ্রহ করে। এরপর ওপেনিং ব্যাটার তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরির (১০১ রান) সুবাদে বাংলাদেশ ৪২৬ রান তোলে এবং প্রথম ইনিংসের ভিত্তিতে ২২৮ রানের বড় লিড নিশ্চিত করে।
চাপের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অল-আউট হয়ে যায়, ফলে ম্যাচটি জিততে বাংলাদেশের সামনে মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায়। বাংলাদেশ মাত্র এক উইকেট হারিয়েই এই সহজ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে নেয়। এই জয়ের মাধ্যমে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এমন এক লিড নিশ্চিত করল যা আর টপকানো সম্ভব নয়।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসান কোনো রান না করেই আউট হয়ে যান, তবে শাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক মিলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। শাদমান ২৫ এবং মুমিনুল ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে, অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন লড়াই করে একটি সেঞ্চুরি (১০৪ রান) করলেও অপর প্রান্ত থেকে তেমন কোনো সহায়তা পাননি। বাংলাদেশের অভিজ্ঞ স্পিন-অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ পাঁচটি উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন, আর হাসান মাহমুদ নেন তিনটি উইকেট। এই ইনিংসে গ্রিন ২০১টি বল মোকাবেলা করে ১০৪ রানের সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেন, যেখানে ছিল চারটি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা; এছাড়া স্টিভ স্মিথ ৪৪ এবং মারনাস লাবুশেন ৩১ রান করেন। এদিকে, ৩০ রান করে আউট হন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারি।
ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন বাংলাদেশের বোলার হাসান মাহমুদ; ম্যাচে নয়টি উইকেট নিয়ে দলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।











