নয়াদিল্লি: নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে মেয়র বালেন শাহের নেতৃত্বে অবৈধ নির্মাণ, দখলদারি এবং সরকারি জমি দখলের বিরুদ্ধে জোরদার বুলডোজার অভিযান শুরু হওয়ার পর ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে সতর্কতা বাড়িয়েছে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার নেপাল সীমান্ত ইউনিটের এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, নেপালে চলা কঠোর প্রশাসনিক অভিযানের জেরে সেখানে বসবাসকারী রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি মুসলমানদের একাংশ জীবিকা ও আশ্রয়ের সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপাল সরকার দেশজুড়ে বস্তি ও অবৈধ বসতি উচ্ছেদের যে অভিযান চালাচ্ছে, তার অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীও বিভিন্ন স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থার কাছ থেকে অবৈধ বসতিগুলির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। এর ফলে সেখানে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের উপর চাপ আরও বেড়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কাঠমান্ডুর কাপান এলাকা-সহ নেপালের বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী রোহিঙ্গা মুসলমানদের সামনে এখন জীবিকা ও বাসস্থানের গুরুতর সংকট তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নেপালের বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনও অবৈধ বসতি উচ্ছেদের দাবিতে সরব হয়েছে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল— নেপালে বসবাসকারী বহু রোহিঙ্গা এখন উর্দুর পাশাপাশি নেপালি ভাষাও ভালোভাবে রপ্ত করেছে। পাশাপাশি অবৈধ উপায়ে পরিচয়পত্র সংগ্রহের অভিযোগও উঠেছে। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় তাদের শনাক্ত করা নিরাপত্তাবাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ভারতের বলরামপুর জেলার সীমান্ত সংলগ্ন নেপালের গঢ়ওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কোইলাবাস এলাকাতেও অবৈধ বসতির চিহ্নিতকরণ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সীমান্তবর্তী রাস্তাগুলিতে কড়া নজরদারি চালানো, সন্দেহজনক গতিবিধির উপর পর্যবেক্ষণ বাড়ানো এবং গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণভাবে সক্রিয় রাখার নির্দেশ দিয়েছে।









