কলকাতা: নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে বেরিয়ে আসার সময় পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। আদালত চত্বরে উপস্থিত একদল আইনজীবী তাঁকে দেখে “চোর, চোর” বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আদালতে উপস্থিত তৃণমূল নেতা ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভারতীয় জনতা পার্টির প্রভাবিত কিছু আইনজীবী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের আইনজীবী দলকে তাঁকে নিরাপদে আদালত চত্বর থেকে বের করে আনতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে।
তিনি বলেন, “আদালত এমন জায়গা নয়, যেখানে কাউকে প্রকাশ্যে চোর বা ডাকাত বলা যায়। আমরা চাইলে বিরোধী দলের নেতাদের সম্পর্কেও একই ধরনের মন্তব্য করতে পারি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একটি আবেদনের শুনানিতে অংশ নিতে আদালতে এসেছিলেন। শুনানি শেষে সেখান থেকে বের হওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।”
জানা গিয়েছে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে সঙ্গে নিয়ে কথিত নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা এবং দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।
এই মামলা তৃণমূলের পক্ষ থেকে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিভিন্ন তৃণমূল কার্যালয়ে হামলা চালানো হয় এবং দলীয় কর্মীদের উপর আক্রমণের ঘটনা ঘটে।
প্রধান বিচারপতি সুজয় পলের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। বেঞ্চে বিচারপতি পার্থসারথি সেনও উপস্থিত ছিলেন।
আবেদনকারীর দাবি, নির্বাচনের পরে বহু তৃণমূল নেতা ও কর্মীকে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হয়েছে। পাশাপাশি, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণেই অনেকের উপর হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। গত ১২ মে কলকাতা হাইকোর্টে এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়।











