দিনহাটা: দিনহাটা শহরের বলরামপুর সড়ক ও সাহেবগঞ্জ সড়কে যানজট এখন নিত্যদিনের সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ট্রেন চলাচলের সময় ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বহু ক্ষেত্রে দমকল কর্মীদের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্সও যানজটে আটকে পড়ছে, যার ফলে জরুরি পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।সাহেবগঞ্জ সড়কে রেলগেট থাকার পাশাপাশি পাশেই অবস্থিত দিনহাটা রেলস্টেশন। অধিকাংশ সময় ট্রেন স্টেশনে আসার আগে বা স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় রেলগেট নামিয়ে দেওয়া হয়। ফলে রেললাইনের দুই প্রান্তে যানবাহন ও পথচারীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। এর জেরেই চরম যানজটের সৃষ্টি হয়। একই অবস্থা বলরামপুর সড়কেও দেখা যায়। এই যানজট কাটতে অনেক সময় কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। এছাড়াও শহরের স্টেশন চৌপথি এলাকাতেও একই সমস্যায় ভুগছেন মানুষ।শহরের সাহেবগঞ্জ সড়কের রেলগেটের কারণে ট্রেন চলাচলের সময় নিগমনগর, বামনহাট, চৌধুরীহাট-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কোথাও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও দমকল বাহিনীকে আটকে পড়তে হয়। এলাকায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। অসুস্থ রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে দিনহাটা বা কোচবিহারে নিয়ে যাওয়ার সময় রেলগেট বন্ধ থাকলে রোগীর অবস্থা আরও সঙ্কটজনক হয়ে পড়ে।দিনহাটা–কোচবিহার রেল দাবি সমিতির সদস্য রাজা ঘোষ, জয় গোপাল ভৌমিক ও অজিত জৈন জানান, “এই দুই এলাকায় যানজট সমস্যার কথা ইতিমধ্যে রেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সেখানে উড়ালপুল না হলে অন্তত ভূগর্ভস্থ পথ তৈরি করলে সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে। বিষয়টি নিয়ে আবারও রেলমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।”মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রানা গোস্বামী বলেন, “শহরের দুই এলাকায় দুটি রেলক্রসিং থাকায় ট্রেন চলাচলের সময় রেলগেট নামিয়ে দেওয়া হয়। ফলে দুই দিকের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। আমরা রেল কর্তৃপক্ষের কাছে উড়ালপুল নির্মাণের দাবি জানিয়েছি।”এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা নিগমনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অনির্বাণ নাগ এবং চৌধুরীহাটের বাসিন্দা প্রদীপ সাহা জানান, যাতায়াতের সময় প্রায়ই রেলগেট বন্ধ থাকায় তাঁদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। সকলের সুবিধার্থে দ্রুত উড়ালপুল নির্মাণের দাবি জানান তাঁরা।রেল দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সাহেবগঞ্জ সড়কের স্টেশন সংলগ্ন রেলগেট এলাকায় নিয়মিত যানজটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথাও ভাবা হচ্ছে।










