ডেনমার্কের কিংবদন্তি ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় ভিক্টর এক্সেলসেন খেলা থেকে অবসর নিয়েছেন

IMG-20260415-WA0108

কোপেনহেগেন: বিশ্বের অন্যতম সেরা শাটলার, দুইবারের অলিম্পিক ও দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ডেনমার্কের ভিক্টর এক্সেলসেন পেশাদার ব্যাডমিন্টন থেকে অবসর নিয়েছেন। ৩২ বছর বয়সে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে ক্রীড়া জগতের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা গুরুতর পিঠের চোটের কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা গত দুই বছরে তাঁর ক্যারিয়ারকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছিল।
নিজের অবসরের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, তাঁর শরীর আর তাঁকে খেলার অনুমতি দিচ্ছে না। তিনি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পিঠের চোটের সঙ্গে লড়াই করছেন এবং গত বছর এপ্রিল মাসে অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। কিন্তু অক্টোবর মাসে আবারও ধাক্কা লাগে। সেই সময় থেকে তিনি এই স্তরে খেলতে বা অনুশীলন করতে পারছেন না। ব্যথার কারণে খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তাই তাঁকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চিকিৎসক ও সার্জনদের পরামর্শ নিয়েই তিনি অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের মতে, ব্যথা অব্যাহত থাকলে আবার অস্ত্রোপচার করতে হতে পারে এবং সেটি সফল না হলে আরও গুরুতর অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ স্তরে প্রতিযোগিতা করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
উল্লেখযোগ্য যে, ছোটবেলা থেকেই নিজের প্রতিভার জোরে ব্যাডমিন্টন জগতে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন এক্সেলসেন। ২০১০ সালে তিনি বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে ইতিহাস গড়েন এবং এই কৃতিত্ব অর্জনকারী প্রথম ইউরোপীয় খেলোয়াড় হন। একই বছর তিনি সিনিয়র পর্যায়ে অভিষেক করে সাইপ্রাস আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতে নিজের ক্যারিয়ারের দারুণ সূচনা করেন।
২০১৪ সালে তিনি সুইস ওপেন প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করেন এবং একই বছরে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। ২০১৬ সালে তিনি সুপার সিরিজ ফাইনালসে পুরুষ এককের শিরোপা জিতে প্রথম ইউরোপীয় খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাস গড়েন।
তাঁর অলিম্পিক ক্যারিয়ারও ছিল অসাধারণ। ২০১৬ রিও অলিম্পিকে তিনি কিংবদন্তি লিন ড্যান-কে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। এরপর ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয় করেন এবং ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকেও নিজের শিরোপা ধরে রেখে আবার স্বর্ণপদক অর্জন করেন। টোকিও অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয় তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
এছাড়া তিনি ২০১৭ সালে গ্লাসগো এবং ২০২২ সালে টোকিওতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় ছিলেন এবং ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে টানা ১০০ সপ্তাহ শীর্ষ স্থানে থাকার রেকর্ড গড়েন। তিনি তিনবার ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ এবং থমাস কাপের মতো বড় প্রতিযোগিতাতেও জয়লাভ করেছেন।

About Author

Advertisement