তৃনমূল যাদের আবর্জনা ভেবে বালতিতে ফেলে দেয় , বিজেপি তাদের প্রার্থী করে: অভিষেক

Screenshot_20260402_201225_Facebook

কোলকাতা: নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে শাসক দলের নির্বাচনী প্রচারের ঝাঁঝ তত বাড়ছে। বৃহস্পতিবার তালডাংরার বিবড়দা কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাসকদল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারন সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায় একদিকে উন্নয়নের খতিয়ান তুলেধরে জয়ের টার্গেট বেঁধে দেন অন্যদিকে বিরোধী দল বিজেপির প্রার্থীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। অভিষেকবাবুবলেন,এবারের নির্বাচন শুধুমাত্রতৃনমূল প্রার্থীকে জেতার জন্য নয়।
গত ৫ বছরে ধরে নরেন্দ্র মোদী সরকার যে বঞ্চনা করে চলেছে তার জবাব দেওয়ার নির্বাচন এটা। এখন জবাব দেওয়ার সময় এসে গেছে। অভিষেক বন্দোপাধ্যায় বলেন,বিজেপির নেতাদের তিনি তাদের উন্নয়নমূলক কাজের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে বিতর্কে বসার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনিতাদের সরকারের উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে বিতর্ক বসবেন। এই বিতর্কে তিনি বিজেপির নেতাদের ল্যাজে গোবরে করে মাঠ থেকে বের করে দেবেন। এটা তার চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি এখানে এখানে এসে ছিলেন। তৃনমূল প্রার্থীকে জেতানোর আহ্বান জানিয়ে ছিলেন। জয়ী হয়েছিল তৃনমূল প্রার্থী।
তাই এবারও তিনি এসেছেন তৃনমূল প্রার্থীকে জয়ী করার আহ্বান জানাতে। তিনি বলে সভা শুরু হওয়ার দুঘন্টা আগে থেকে কলেজ মাঠ ভরে ওঠার ছবি তিনি পাচ্ছিলেন। এই গরমে দুতিন ঘন্টা ধরে যারা অপেক্ষা করছিলেন তারা শুধু বক্তব্য শোনার জন্য নয়।দলকে ভালবেসে ভোটে জেতার জন্য এই অপেক্ষা। তিনি মঞ্চ থেকে কড়া ভাষায় বিজেপি প্রার্থীকে আক্রমন করেন।অভিষেক বন্দোপাধ্যায় বলেন যে তারা যাদের আবর্জনার বালতিতে ফেলে দেয় বিজেপি তাদের প্রার্থী করে। তালডাংরার বিজেপি প্রার্থী তৃণমূলের পচা মাল।
একদিকে শিক্ষক আর অন্যদিকে দুনম্বর ও চিটিংবাজ।তার নামে ইতিমধ্যে অসংখ্য এফআইআর হয়েছে। অন্যদিকে তৃনমূলের প্রার্থী তালডাংরা কেন্দ্রে গত দেড় বিধায়ক ছিলেন। তার লড়াই ও উন্নয়নমুখী কাজের সাক্ষী রয়েছেন এই কেন্দ্রের বাসিন্দারা। তিনি উন্নয়নের খতিয়ান দিতে গিয়ে বলেন যে তাল ডাংরা বিধানসভা এলাকায় ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। এই এলাকায় ৭৩ হাজার মহিলা প্রতি মাসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দেড় হাজার টাকা পাচ্ছেন।বাঁকুড়া জেলায় ৮ লক্ষ ৭৩ হাজার মায়েরা এই টাকা পাচ্ছেন। বাংলার আবাস যোজনায় তালডাংরা বিধানসভা এলাকায় ১৪৫৫০ জন মাথার ওপর পাকা ছাদ পেয়েছেন।
বাঁকুড়া জেলায় ১লক্ষ ৭৬ জন পাকা বাড়ি তৈরির জন্য ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। এই এলাকার কড়াকানালিতে আইটিআই হয়েছে। নদী বাঁধ নির্মানে ৪কোটি ৬০ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছে বন্যার জলে বাড়িঘর ও চাষের জমির ক্ষতি আটকাতে। তালডাংরা হাসপাতালের উন্নতি করা হয়েছে। বেড বাড়ানো হয়েছে। এই বিধানসভা এলাকার ৫টি জিপিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।তিনি এসব কাজ মনে রেখে আগামী ২৩ তারিখ ভোট দিয়ে চতুর্থ বারের জন্য মা-মাটি সরকারকে আনবে। কেন্দ্র সরকার তালডাংরা বিধানসভার জন্য একটা টাকাও দেয়নি। যদি কেউ দেখিয়ে দিতে পারেন তবে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলেও জানান অভিষেক ব্যানার্জি।
তৃণমূলের জয় সময়ের অপেক্ষায়।তালডাংরা, ইন্দপুর সিমলাপাল এর তিনটি ব্লকের একাধিক অঞ্চলে কেন্দ্র টাকা বন্ধ করে দিয়েছে।খাদ্য সাথী প্রকল্পে তিন লক্ষ জন প্রতি মাসে বিনামূল্যের রেশন পাচ্ছেন। তালডাংরা বিধানসভায় ৫২ হাজার কৃষক ভাইয়েরা কৃষক বন্ধু সহযোগিতা পাচ্ছে।যুব সাথী প্রকল্পে এই এলাকায় ২৫ হাজার জেলাতে তিন লক্ষ কুড়ি হাজার যুব সাথী ১৫০০ টাকা করে পাচ্ছেন। এছাড়াও কন্যাশ্রী কে ওয়ান কে টু মিলে প্রায় এক লক্ষ বোনেরা উপকৃত হয়েছে।
পথশ্রী রাস্তা কেন্দ্র আটকে রেখেছে সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রামীণ রাস্তায় ৯৬ টি দেড় শ কিলোমিটার রাস্তা প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। ৬৭ কোটি টাকা খরচ পড়েছে পুনর নির্মাণ নির্মাণ করার জন্য। আসন্ন নির্বাচনে শাসকদল তৃনমূল এবার বাঁকুড়ায় প্রচারে জোর দিয়েছে। দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে এসপ্তাহেই প্রচারে এসেছেন তৃনমূল সুপ্রিম মমতা বন্দোপাধ্যায় রাইপুর ও বিষুপুরে এবং সাংসদ ও অভিনেতা দেব বেলিয়াতোড়ে। এই হাই ভোল্টেজ প্রচারের রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার তালডাংরার বিবড়দা কলেজ মাঠে জনসভা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারন সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। প্রত্যাশা মতই তিনি উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন।
তিনি আজীবন লক্ষ্মীর ভান্ডার,সবার বাড়িতে পরিশ্রুত পাণীয় জল সরবরাহ, দুয়ারে স্বাস্থ্য ক্যাম্প, বার্ধক্য ভাতা ও সবার মাথার ওপর পাকা ছাদ সুনিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে অভিষেক বন্দোপাধ্যায় জানান। এপ্রেক্ষিতে উল্লেখ্য,এই ৫টি প্রতিজ্ঞা তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তাহারেও তুলে ধরা হয়েছে।

About Author

Advertisement