নয়াদিল্লি: গত ১৩ বছর ধরে শয্যাশায়ী অবস্থায় অচেতন হয়ে পড়ে থাকা গাজিয়াবাদের হরিশ রানার জীবনের সংগ্রাম মঙ্গলবার সর্বভারতীয় আয়ুর্বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান-এ শেষ হয়ে যায়। এটি সেই ঘটনা, যা ভারতে ‘ইচ্ছামৃত্যু’ নিয়ে একটি নতুন আইনি ও নৈতিক বিতর্কের সূচনা করেছিল।
সম্প্রতি ভারতের সর্বোচ্চ আদালত হরিশ রানাকে মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর অনুমতি দিয়েছিল, যার পর তাকে এমসের উপশমকারী পরিচর্যা বিভাগের অধীনে রাখা হয়েছিল।
সেই দুর্ঘটনা, যা সবকিছু বদলে দেয়:
হরিশের গল্প ২০১৩ সালের। তিনি একজন মেধাবী সিভিল প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র ছিলেন। রাখী বন্ধনের দিন হরিশ ফোনে কথা বলছিলেন এবং হঠাৎ চতুর্থ তলা থেকে নিচে পড়ে যান। এই এক মুহূর্তেই তার পুরো জীবন বদলে যায়। তিনি ‘চতুরঙ্গ পক্ষাঘাত’-এর শিকার হন—একটি এমন অবস্থা, যেখানে শরীরের চারটি অঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
হাসপাতালের করিডর এবং মায়ের আশা:
গত এক সপ্তাহ ধরে হরিশ খাবার ও জল গ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। চিকিৎসকদের মতে, এই প্রক্রিয়া তার ইচ্ছা এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ীই চলছিল। একদিকে যখন আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছিল, অন্যদিকে হাসপাতালের করিডরে বসে তার মা শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কোনও ‘অলৌকিক’ ঘটনার প্রার্থনা করে যাচ্ছিলেন।
এই ঘটনা ভারতের চিকিৎসা ইতিহাসে একটি জটিল উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, যেখানে বিজ্ঞানের সীমা এবং মানবিক অনুভূতি একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে।










