কলকাতা: রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন একের পর এক নির্দেশ জারি করে চলেছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ভোটের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। ভোট যাতে শান্তিপূর্ণভাবে হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য কমিশন আগেই পুলিশকে কড়া বার্তা দিয়েছে। কমিশনের সেই নির্দেশ মেনে রবিবার থেকেই পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা থানাগুলি পরিদর্শন করা শুরু করেছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের জন্য কী কী করতে হবে, সেই নির্দেশ পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ সুপাররা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের দিচ্ছেন। হিংসামুক্ত ভোট, ভয়মুক্ত পরিবেশ এবং ভুয়ো ভোট রুখতে কী করতে হবে, সেই বার্তাও দিয়েছেন পুলিশকর্তারা।
রবিবার কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ ভাঙড় থানায় যান। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশকে কী কী করতে হবে, তা বোঝাতেই তিনি সেখানে পৌঁছেছিলেন। সেদিন ভাঙড় বিভাগের সব থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক, পুলিশ সুপার এবং বাহিনীর সদস্যদের ডেকে কমিশনার জানিয়ে দেন, হিংসা ও প্ররোচনামূলক ভোট রুখতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ কার্যকর করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারিতেই ভোটের প্রস্তুতি চলবে।
মূলত ছয়টি কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম, হিংসামুক্ত ভোট। দ্বিতীয়, প্ররোচনামুক্ত ভোট। তৃতীয়, কোনো ভোটারকে যেন ভয় দেখানো না হয়। চতুর্থ, ভুয়ো ভোট রুখতে হবে। পঞ্চম, ভোটকেন্দ্র জোর করে বন্ধ বা অবরুদ্ধ করার চেষ্টা রুখতে হবে। ষষ্ঠ, উৎসবিহীন যোগাযোগ ব্যাহত করার ঘটনা রুখতে হবে।
এদিকে, কমিশন চায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর মাধ্যমে গোটা রাজ্যে ভোট করাতে। নির্বাচন সংক্রান্ত আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের জন্য মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরে প্রায় প্রতিদিনই ধাপে ধাপে বৈঠক হচ্ছে। রবিবার দুপুরেও বাহিনী মোতায়েন নিয়ে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনো ভোটকেন্দ্রে সরাসরি সম্প্রচার আধঘণ্টার বেশি বন্ধ থাকলে সেখানে পুনর্নির্বাচন করা হবে।
এই মুহূর্তে রাজ্যে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, ধাপে ধাপে আরও দুই হাজার কোম্পানি আসতে চলেছে। সেই হিসাবে ভোটের সময় রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের সংখ্যা আড়াই লক্ষে পৌঁছতে পারে।
ভোটের সূচি ঘোষণার পরই রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে শুরু করে পুরো কাঠামোতে পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আইন-শৃঙ্খলা), পুলিশের নোডাল আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বয়কারীসহ ভোটের কাজে যুক্ত বিভিন্ন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক এবং জেলাশাসক অর্থাৎ জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের মধ্যে একটি সমন্বিত নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।









