কোলকাতা: ব্রিগেডের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এসে পৌঁছানোর আগেই রণক্ষেত্রের আকার নিল গিরিশ পার্ক এলাকা। দু পক্ষের মধ্যে চলে ইট বৃষ্টি। আর এই গণ্ডগোলে রক্তাক্ত একাধিক বিজেপি কর্মী। গোটা রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায় ভাঙা কাচের টুকরো। একাধিক গাড়ির কাচ ভাঙচুর হয়েছে। ঘটনাস্থলে নামানো হয় ব়্যাফ।
দু পক্ষের বচসা সামাল দিকে গিয়ে আহত হন বৌবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্কর।সূত্রে খবর, উত্তর কলকাতা থেকে বিজেপি নেতা তমোঘ্ন ঘোষের নেতৃত্বে একটি বাস যাচ্ছিল ব্রিগেডের উদ্দেশ্যে। বাসটিতে ছিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের দাবি, শশী পাঁজার বাড়ির সামনে থেকে একদল তৃণমূল কর্মী তাঁদের বাসে ভাঙচুর চালায়। বাসের দরজা-জানলা-কাচ ভেঙে একাকার হয়ে যায় বলে দাবি বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের। পাশাপাশি একাধিক বিজেপি কর্মী-সমর্থকের মাথাও ফাটে।
তাঁদের কয়েকজনকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় স্থানীয় হাসপাতালে। অপরদিকে, তৃণমূলের দাবি, বিজেপি কর্মী সমর্থকরা শশী পাঁজার বাড়িতে ইট ছুড়েছে। তাঁদের পাল্টা মারধর করা হয়। শনিবারের এই ঘটনায় অবশ্য জোড়াফুল শিবিরের দাবি, শনিবার সকালে উত্তর কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিজেপি কর্মীরা মিছিল করে ব্রিগেডের দিকে যাওয়ার সময় বিজেপি আশ্রিত ‘দুষ্কৃতিরা’ পরিকল্পিতভাবে শশী পাঁজার বাসভবনকে নিশানা করে। ইটের আঘাতে বাড়ির জানালার কাচ ও সদর দরজার ক্ষতি করা হয়।
এর পাশাপাশি রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা এও জানান, তাঁর বাড়িতে ইট ছুড়ে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন বিজেপি কর্মীরা। পাশাপাশি তাঁর সংযোজন, ‘বিজেপির গুন্ডারা যাঁরা ব্রিগেডে যাচ্ছেন তাঁদের বাসে রয়েছে ইট-বোতল আর বোমা। ওরা আমার বাড়ি যেটা গিরিশপার্কে আছে তার গেট ভাঙচুর করেছে।’ এর পাশাপাশি মন্ত্রী শশী পাঁজা এও জানান, বিজেপি আশ্রিত গুণ্ডারা তাঁকে উদ্দেশ্যে করে থান ইট ছোড়ার চেষ্টা করেছে। ইটের আঘাত লেগেছে তাঁর পেটে। সংবাদ মাধ্যমের সামনে তা দেখানও তিনি। পাশাপাশি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘এদের স্পর্ধা দেখুন। এরা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সভায়। ওদের বাসে ভর্তি রয়েছে ইট, বোমা, বোতল রয়েছে। আমার তৃণমূলের সহযোদ্ধারা আক্রান্ত।
কাউকে হাসপাতাল-কাউকে নার্সিংহোমে পাঠিয়েছি। পিছনের গলিতে গিয়ে পুলিশকে মেরেছে। মহিলা পুলিশকে আক্রমণ করেছে। আমাদের কাউন্সিলরকে আক্রমণ করেছে। এরা বাংলার নয়, বাইরে থেকে গুণ্ডা এনেছে, খুনিদের নিয়ে এসেছে। ওরা খুনি, গণতন্ত্রকে শেষ করতে চাইছে।’ এই ঘটনায় আহত এক বিজেপি কর্মী জানান, ‘আমাদের বাসের কাচ ভেঙে দিয়েছে। মারধর করেছে। ওরা খুব ভয়ঙ্কর। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবেই ব্রিগেডের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম। সেই সময় ঢিল-পাথর-ইট মেরে আমাদের বাস ভাঙচুর করে। বাইকও ভাঙচুর করা হয়েছে।









