বেনগালুরুতে মঙ্গলবার থেকে ৩০০০-এর বেশি হোটেল বন্ধ, কারণ জেনে অবাক হবেন সবাই

Bangalore-City

বেনগালুরু: কেন্দ্র সরকার যা বলছে, বাস্তবতা তার থেকে ভিন্ন। বেনগালুরু শহরে পড়ুয়া ছাত্র থেকে চাকরিজীবী পর্যন্ত সবাই অদ্ভুত এক সংকটের মুখোমুখি হতে চলেছেন। মঙ্গলবার থেকে শহরে বাইরে খাবার বা নাস্তা খাওয়া কঠিন হতে পারে। শহরের ৩০০০-এর বেশি হোটেল ও রেস্তোরাঁ রন্ধনশালার কাজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পরিস্থিতি ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে রান্নার গ্যাসের দামে ব্যাপক উত্থানের কারণে তৈরি হয়েছে। ইরানের হরমুজ জলদ্বারথ থেকে সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় একদিনের মধ্যে গ্যাসের দাম ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তেলের দামও ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
বেনগালুরু হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত:
বেনগালুরু হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা খাবার রান্না করতে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। তেল কোম্পানিগুলো পূর্বে আশ্বাস দিয়েছিল যে যুদ্ধের পরেও অন্তত ৭০ দিন পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে না। কিন্তু এখন সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় হোটেলগুলোর সামনে মঙ্গলবার থেকে কাজ বন্ধ করার ছাড়া কোনো বিকল্প রইল না। এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন সেই ছাত্র, বয়স্ক মানুষ ও চাকরিজীবীরা, যারা প্রতিদিনের খাবারের জন্য হোটেলের ওপর নির্ভরশীল।
মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারমাইয়া’র প্রতিক্রিয়া:
কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারমাইয়া এই সংকটের জন্য কেন্দ্র সরকারের অর্থনৈতিক নীতি এবং দামের বৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন। সম্প্রতি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১১৫ টাকা এবং গৃহস্থালির সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের বিরোধ যথাযথ, কারণ কেন্দ্র দাম বাড়িয়েছে এবং সরবরাহও বাধাপ্রাপ্ত। তিনি এটিকে কেন্দ্রের ‘ভুল বিদেশ নীতি’র ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
হোটেল কোম্পানিগুলোর ওপর প্রভাব:
দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে রেস্তোরাঁ ও হোটেলের অভিযোগ আসছে। তাদের দাবি, তারা পুরো এলপিজি সরবরাহ পাচ্ছেন না। তাই মঙ্গলবার হোটেলগুলোর ওপর এর প্রভাব দেখা দিতে পারে।
হোটেল শিল্পের দাবি:
হোটেল মালিকরা বলেন, তারা ইতিমধ্যেই বাড়তি মুদ্রাস্ফীতি এবং খাবারের উপকরণের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে লড়াই করছেন। এখন গ্যাসের অভাব তাদেরকে আরও সমস্যায় ফেলেছে। তারা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে এবং ‘প্রয়োজনীয় সেবা’ হিসাবে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সরকার বলেছে যে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহে কোনো বিধিনিষেধ নেই। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ গ্যাস সরবরাহকারীরা বাণিজ্যিক সিলিন্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে অক্ষমতা দেখাচ্ছেন। এর ফলে রেস্তোরাঁ শিল্পে গুরুতর প্রভাব পড়ছে এবং সাধারণ মানুষের খাবারের মতো প্রয়োজনীয় সেবা প্রভাবিত হচ্ছে। সংস্থা সরকারকে এই বিষয়ে দ্রুত স্পষ্টতা এবং জরুরি হস্তক্ষেপের জন্য অনুরোধ করেছে।

About Author

Advertisement