নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারত আবারও সংলাপ ও কূটনীতিক প্রচেষ্টাকেই সমস্যার সমাধানের পথ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার রাজ্যসভায় বলেছেন, সরকার অঞ্চলের পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছে, যেখানে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় বসবাস ও কাজ করেন।
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতির উপর ক্রমাগত নজর রাখছেন এবং ভারতের বিশ্বাস যে উত্তেজনা কমানোর জন্য আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিনি বলেন, ভারত চায় পশ্চিম এশিয়া স্থিতিশীল থাকুক, কারণ উপসাগরীয় দেশগুলিতে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক বসবাস করেন।
এর আগে কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও এই সংঘাতের প্রভাব উপসাগরীয় দেশগুলিতে কর্মরত ভারতীয়দের উপর এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দামের উপর পড়তে পারে বলে বিষয়টি উত্থাপন করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চলমান সংঘাতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ইরানের শীর্ষস্তরের নেতারাও রয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অঞ্চলের সমস্ত দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানানো উচিত। তিনি জানান, ১ মার্চ নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভার কমিটির বৈঠকে এই সংকট নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। সেখানে ওই অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও বিবেচনা করা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং উপসাগরীয় অঞ্চল ভারতের একটি বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, যেখান থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে জানান, এই সংঘাতে দুইজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। সরকার ইতিমধ্যেই ভারতীয় নাগরিকদের ইরানে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং সেখানে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছিল।
সংকটে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার বিশেষ উড়ানের ব্যবস্থাও করেছে এবং সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং দেশের জ্বালানি চাহিদা নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।










