উন্নত হৃদ্রোগ পরিচর্যায় ৭৭ বছর বয়সি ব্যক্তির প্রাণ বাঁচাল আনন্দপুরের ফোর্টিস হাসপাতাল
কলকাতা: এক বিরল ঘটনায় আনন্দপুরের ফোর্টিস হাসপাতাল ৭৭ বছর বয়সি এক পুরুষের সফল চিকিৎসা করেছে, যিনি হঠাৎ নিম্ন রক্তচাপ (হাইপোটেনশন) এবং পেটের অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। লক্ষণগুলি অস্বাভাবিক হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত একটি গুরুতর হৃদ্যন্ত্রজনিত জরুরি অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। এই জটিল কেসটি বহুবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের একটি দল পরিচালনা করে, যার নেতৃত্ব দেন ডা. শুভানন রায়, ইন্টারভেনশনাল কার্ডিয়োলজির পরিচালক ও প্রধান। এই ঘটনা জীবনরক্ষায় উচ্চমাত্রার ক্লিনিক্যাল সতর্কতা এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ বিভাগের মধ্যে সময়োপযোগী সমন্বয়ের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
রোগীকে প্রথমে পেটের উপসর্গের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তবে নিয়মিত পরীক্ষার সময় ইকোকার্ডিওগ্রাফি করলে দেখা যায়, হৃদ্যন্ত্রের একটি অংশ স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। এরপর হৃদ্যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিগুলির বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়, যেখানে প্রধান একটি ধমনীতে গুরুতর অবরোধ ও শক্ত হয়ে যাওয়ার লক্ষণ ধরা পড়ে। পরবর্তী পরীক্ষায় তীব্র করোনারি সিন্ড্রোম নিশ্চিত হয়।
যেহেতু অবরোধটি একটি সরু ধমনির দীর্ঘ অংশজুড়ে ছিল, তাই একাধিক দীর্ঘ স্টেন্ট বসানো থেকে বিরত থাকা হয়, কারণ এতে ভবিষ্যতে জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারত। ওপেন-হার্ট বাইপাস সার্জারির সম্ভাবনাও বাতিল করা হয়, কারণ অবরোধের পরবর্তী অংশের ধমনীটি খুবই সরু ও দুর্বল ছিল, যা অস্ত্রোপচারের জন্য উপযুক্ত নয়। চিকিৎসকেরা আরও বুঝতে পারেন যে রোগীর পেটের ব্যথাই আসলে হৃদ্রোগের সতর্কবার্তা—বিশেষত ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এমনটি দেখা যায়, যেখানে প্রচলিত বুকে ব্যথা নাও থাকতে পারে।
ডা. শুভানন রায় বলেন, “এই ঘটনাটি বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং ছিল, কারণ রোগী সাধারণ বুকে ব্যথার পরিবর্তে পেটের অস্বস্তি নিয়ে এসেছিলেন, যা ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে হৃদ্রোগের একটি পরিচিত কিন্তু প্রায়ই উপেক্ষিত লক্ষণ। প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিকভাবে শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সময়মতো সহযোগিতার ফলে আমরা হৃদ্যন্ত্রের জরুরি অবস্থাটি ধরতে সক্ষম হই। অবরোধের জটিলতা ও রোগীর বয়স বিবেচনায় নিয়ে আমরা সতর্ক পরিকল্পনা গ্রহণ করি, যাতে অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ স্টেন্ট বা ওপেন-হার্ট অস্ত্রোপচার এড়ানো যায়। উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে আমরা নিরাপদ ও কার্যকরভাবে রক্তপ্রবাহ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। রোগী চিকিৎসায় ভালো সাড়া দিয়েছেন এবং আমরা দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছি।”
হাসপাতালের ফ্যাসিলিটি ডিরেক্টর আশীষ মুখার্জি বলেন, “এই জটিল হস্তক্ষেপ আনন্দপুরের ফোর্টিস হাসপাতালের অত্যাধুনিক ও রোগীকেন্দ্রিক হৃদ্রোগ পরিচর্যার প্রতি অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। অভিজ্ঞ কার্ডিয়োলজি বিশেষজ্ঞ দল এবং উন্নত ইন্টারভেনশনাল পরিকাঠামোর সহায়তায় হাসপাতাল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং হৃদ্রোগ সংক্রান্ত ক্ষেত্রেও উৎকৃষ্ট ফলাফল অর্জন করছে।”









