নয়াদিল্লি: অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রামীণ উন্নয়নের একটি মৌলিক চালিকাশক্তি হিসেবে এআই দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভারতের এআই-এর মাধ্যমে প্রশাসনিক ক্ষেত্রগুলিতে ন্যায়, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং প্রেক্ষিতভিত্তিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পঞ্চায়েতী রাজ, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে এআই স্বচ্ছতা, দক্ষতা, পরিকল্পনা ও তৃণমূল স্তরের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করছে। ভাষিনী, ভারতজেন ও আদি বাণীর মতো বহুভাষিক ও ভয়েস-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ভাষা ও সাক্ষরতার প্রতিবন্ধকতাগুলিকে দূর করছে। জাতীয় মিশন, ক্ষেত্রভিত্তিক উদ্যোগ, রাজ্য পর্যায়ের উদ্ভাবন এবং এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬—সব মিলিয়ে জনকেন্দ্রিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যে এআই একটি সমন্বিত অগ্রগতির পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।ভারতে এআই পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে বৃহত্তর পরিসরে জনকল্যাণমুখী প্রয়োগের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। উন্নত পরিষেবা প্রদানের পাশাপাশি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় প্রশাসনে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য জাতীয় এআই নীতি ও শাসন কাঠামো-জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কৌশল-নীতিআয়োগ প্রবর্তিত এই কৌশল মৌলিক পরিষেবার প্রাপ্যতা, সহজলভ্যতা ও মানোন্নয়নে এআই-এর ব্যবহারের ওপর জোর দেয়। এটি প্রতিস্থাপন নয়, বরং সহায়তার উপর গুরুত্ব আরোপ করে এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও ডিজিটাল কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ায়।এআই সংক্রান্ত প্রশাসনিক নির্দেশিকা-২০২৫ সালে প্রকাশিত নির্দেশিকায় ন্যায়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে এআই ব্যবহারের নৈতিক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নির্দেশনা ও ঝুঁকি মূল্যায়নের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে, কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে এআই-এর নিরাপদ ব্যবহার সুনিশ্চিত হয়েছে।গ্রামীণ ই-শাসন ও বিকেন্দ্রীকৃত প্রশাসনে এআই-গ্রাম পঞ্চায়েতের জন্য এআই টুল- এআই টুল পঞ্চায়েত সভার কার্যবিবরণী স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি করে, যা নিরপেক্ষ নথিভুক্তিকরন সুনিশ্চিত করেছে। পরিকল্পনা, বাজেট ও সম্পদ ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল করে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভবপর করেছে। জাতীয় ডেটা ও এআই মডেল সংক্রান্ত ভাণ্ডার, যা প্রশাসনিক সমাধান প্রদানের মাধ্যমে দ্রুত উন্নয়নে সহায়তা করে এবং সরকারি ক্ষেত্রে উদ্ভাবন বৃদ্ধি করে।গ্রামীণ ভারতে এআই পরিকাঠামো ও ক্ষেত্রভিত্তিক প্রয়োগ, উপগ্রহ-ভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়নমূলক কর্মসূচির পর্যবেক্ষণ করে এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে।এর মাধ্যমে অসংগঠিত শ্রমিকদের পরিষেবা প্রদান ও জীবিকা সংক্রান্ত সহায়তায় এআই ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।কৃষিতে এআই-আবহাওয়া পূর্বাভাস, কীটপতঙ্গ শনাক্তকরণ, ফসল পর্যবেক্ষণ ও কৃষি সংক্রান্ত পরামর্শের ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি করা হচ্ছে।শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন-প্ল্যাটফর্ম এআই-সমন্বিত শিক্ষা প্রদান করছে এবং কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে চলেছে।রাজ্যভিত্তিক উদ্যোগ-বিভিন্ন রাজ্য স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী, এআই সমাধান ব্যবহার করছে। মধ্যপ্রদেশের চ্যাটবট মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত তথ্য প্রদানের মাধ্যমে নাগরিক পরিষেবা উন্নয়নে সহায়তা করছে।ভাষাগত অন্তর্ভুক্তি ও বহুভাষিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় এআই-এর ব্যবহার-ভাষিনী-অনুবাদ, স্পিচ-টু-টেক্সট ও ভয়েস পরিষেবার মাধ্যমে ভাষিনী বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় সরকারি পরিষেবা সহজলভ্য করেছে।ভাষিনী সঞ্চালন-এটি সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় ভয়েস-ভিত্তিক বহুভাষিক প্রযুক্তি সংযুক্ত করে পরিষেবা প্রদান উন্নত করেছে।ভারতজেন এআই-এটি ২২টি ভারতীয় ভাষায় ব্যবহারযোগ্য একটি বৃহৎ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল, যা সরকারি ও সামাজিক ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রয়োগে সহায়তা করছে।আদি বাণী-উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্য এআই-আদি বাণী উপজাতীয় ভাষায় পরিষেবা প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক স্তরে জনগণের প্রবেশাধিকার বাড়ায় এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহায়তা করে।দায়িত্বশীল ও নৈতিক ব্যবহারের মাধ্যমে এআই গ্রামীণ ভারতের রূপান্তরের একটি প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠছে, যা উন্নত পরিষেবা, অংশগ্রহণমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বৈষম্য কমানোর পাশাপাশি, ভবিষ্যৎমুখী উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করে চলেছে।









