অ্যাপোলো ক্যান্সার সেন্টার, কলকাতাবিশ্ব ক্যানসার দিবসে ‘জিরো টু হিরো’ অভিযান শুরু করল

IMG-20260211-WA0070

কলকাতা: বিশ্ব ক্যানসার দিবস উপলক্ষে কলকাতার অ্যাপোলো ক্যান্সার সেন্টার, কলকাতা ‘জিরো টু হিরো’ অভিযানের সূচনা করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য স্টেজ জিরো ক্যানসারের প্রাথমিক শনাক্তকরণ, উন্নত জীবনরক্ষা এবং সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
সংসদে উপস্থাপিত আইসিএমআর-এনসিআরপি এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ক্যানসারের ঘটনা দ্রুত বাড়ছে। ২০২৪ সালে ১৫ লক্ষেরও বেশি নতুন কেস শনাক্ত হয়েছে এবং প্রতি বছর এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে প্রতি নয় জন ভারতীয়ের মধ্যে একজনের জীবন ক্যানসারের ঝুঁকিতে রয়েছে, যা এটিকে একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত করেছে। তবুও ৭০ শতাংশেরও বেশি কেস শেষ পর্যায়ে (স্টেজ III/IV) ধরা পড়ে, যখন চিকিৎসা কঠিন হয়ে যায়, ফলাফল দুর্বল হয় এবং পরিবারগুলির উপর আর্থিক চাপ বেড়ে যায়।
এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে, অ্যাপোলো ক্যান্সার সেন্টার, কলকাতা-র ‘জিরো টু হিরো’ অভিযান স্টেজ জিরোতেই শনাক্তকরণ এবং প্রাথমিক হস্তক্ষেপের জীবন বদলে দেওয়া প্রভাবকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই উদ্যোগ তাদের সম্মান জানায়, যারা সময়মতো পদক্ষেপ নিয়ে সচেতনতা, চিকিৎসার সুযোগ এবং দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে ‘হিরো’ হয়ে উঠেছেন। মস্তিষ্ক, স্তন, গলা, ফুসফুস, অগ্ন্যাশয়, লিভারসহ প্রতিটি ক্যানসার আলাদা হলেও, প্রাথমিক শনাক্তকরণই সুস্থতার প্রধান চাবিকাঠি। তাঁদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, সময়মতো পরীক্ষা জীবন বাঁচাতে পারে।
অ্যাপোলো হসপিটালস ইস্টার্ন রিজিয়ন এর সিইও শ্রী রানা দাসগুপ্ত বলেন, “প্রাথমিক শনাক্তকরণ শুধু চিকিৎসার অগ্রাধিকার নয়—এটাই পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তথ্য স্পষ্টভাবে দেখায়, শেষ পর্যায়ের তুলনায় প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যানসারে রোগমুক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি বেঁচে থাকার হার অনেক বেশি। কলকাতার অ্যাপোলো ক্যানসার সেন্টারে আমরা চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণে জোর দিই। শুরুতেই রোগ ধরা পড়লে ক্যানসার রেজিস্ট্রি শক্তিশালী হয়, দ্রুত চিকিৎসার পথ সুগম হয় এবং রোগী সুস্থ জীবনের দিকে এগিয়ে যেতে পারেন।”
মেডিক্যাল সার্ভিসেসের পরিচালক শ্রী সুরিন্দর সিং ভাটিয়া বলেন, “ক্যানসার তৃতীয় বা চতুর্থ পর্যায়ে হঠাৎ শুরু হয় না; উপসর্গ প্রকাশের আগেই এটি ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করে। ‘জিরো টু হিরো’ অভিযানের মাধ্যমে আমরা শেষ পর্যায়ের চিকিৎসাকে প্রাথমিক জয়ে রূপান্তর করতে চাই। স্টেজ জিরো বা স্টেজ-I এ ক্যানসার ধরা পড়লে চিকিৎসা সহজ হয়, ফলাফল উন্নত হয় এবং রোগী দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।”
সার্জিক্যাল অঙ্কোলজির পরিচালক ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সাইকত গুপ্ত, কনসালট্যান্ট ডা. সুপ্রতীম ভট্টাচার্য এবং ডা. বিকাশ কুমার আগরওয়াল যৌথভাবে বলেন, “প্রাথমিক শনাক্তকরণ প্রতিদিনই যে কত বড় পার্থক্য গড়ে তোলে, আমরা তা প্রত্যক্ষ করি। শুরুতেই রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা কম আক্রমণাত্মক, বেশি কার্যকর এবং বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়। দেরিতে শনাক্তকরণ চিকিৎসাকে জটিল করে তোলে এবং জীবনের মানেও প্রভাব ফেলে।”
মেডিক্যাল অঙ্কোলজির সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. জয়দীপ ঘোষ বলেন, “‘জিরো টু হিরো’ অভিযানের মূল বার্তা হল—রোগীরাই আসল নায়ক। সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং প্রাথমিক উপসর্গে দ্রুত চিকিৎসাই ক্যানসারকে পরাজিত করার সর্বোত্তম সুযোগ দেয়।”
রেডিয়েশন অঙ্কোলজির পরিচালক ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. তানভীর শাহিদ বলেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার ধরা পড়লে রেডিয়েশন থেরাপি সবচেয়ে কার্যকর হয়। আধুনিক ইমেজিং প্রযুক্তি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বদলে দিয়েছে। স্টেজ জিরো বা স্টেজ I-এ অত্যন্ত লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব, ফলে জটিল অস্ত্রোপচার বা কেমোথেরাপির প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রে কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল উন্নত হয়।”
ক্যানসারজয়ী রোগী মিলি মণ্ডল বলেন, “যখন আমার ক্যানসার ধরা পড়ে, শব্দটাই ভীতিকর ছিল। কিন্তু সময়মতো শনাক্তকরণ সবকিছু বদলে দেয়। আমার চিকিৎসা সহজ ছিল, আমি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠি এবং জীবন কখনও থেমে যায়নি। ‘জিরো টু হিরো’-এর মতো উদ্যোগ মনে করিয়ে দেয়—ক্যানসার মানেই শুধু ভয় নয়; সময়মতো পদক্ষেপ নিলে তা আশায় রূপ নিতে পারে।”

About Author

Advertisement