দার্জিলিং: দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ রাজু বিস্ত আজ সংসদে শিল্প সম্পর্ক সংহিতা (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, স্বাধীনতার পর বহু দশক কেটে গেলেও ভারত ব্রিটিশ আমলে প্রণীত একাধিক শ্রম আইনের অধীনেই পরিচালিত হয়ে আসছিল। তিনি বলেন, “এই শ্রম আইনগুলোর অনেকই ছিল শোষণমূলক এবং বর্তমান সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।”
আধুনিক ভারতের জন্য আধুনিক আইনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার পুরনো ২৯টি শ্রম আইনকে একত্রিত করে চারটি নতুন শ্রম আইন প্রণয়ন করেছে—মজুরি সংহিতা, সামাজিক সুরক্ষা সংহিতা, পেশাগত সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য সংহিতা এবং শিল্প সম্পর্ক সংহিতা। তিনি জানান, এই নতুন শ্রম আইনগুলো সম্মিলিতভাবে সকল শ্রমিকের জন্য সময়মতো মজুরি প্রদান, একটি জাতীয় ন্যূনতম মজুরি (যার নিচে কাউকে পারিশ্রমিক দেওয়া যাবে না), সকল কর্মীর জন্য নিয়োগপত্র, মহিলাদের জন্য সমান মজুরি ও মর্যাদা, ৫০ কোটি শ্রমিকের সামাজিক সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সামাজিক ন্যায় ও অন্যান্য আইনগত সুবিধা নিশ্চিত করবে।
সাংসদ রাজু বিস্ত পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে এই নতুন শ্রম আইন কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও তোলেন। তিনি বলেন, টিএমসি সরকারের আমলে উত্তরবঙ্গের প্রায় ৩০টি চা-বাগান বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে সেখানকার আদিবাসী ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের মানুষ জীবিকার সন্ধানে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশাপাশি এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে অঞ্চলের জনসংখ্যাগত ভারসাম্য বদলে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, চা-বাগানের শ্রমিকদের তাদের পৈতৃক জমির পট্টা অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে, অথচ রাজ্য সরকার চা-বাগানের ৩০ শতাংশ জমিতে পাঁচতারা হোটেল নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করেছি যাতে আমাদের চা-বাগান ও সিনকোনা বাগানের শ্রমিকরা তাদের পৈতৃক জমির পট্টা অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা হয়।”
সাংসদ রাজু বিস্ত আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে অসম ও পশ্চিমবঙ্গের চা-বাগান শ্রমিকদের কল্যাণে ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। তিনি বলেন, অসম সরকার তাদের অংশের বরাদ্দ কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখনও তা করতে পারেনি।









