নয়াদিল্লি: লোকসভায় ঘটে যাওয়া হাঙ্গামার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী সাংসদদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মহিলা সাংসদরা। এ বিষয়ে তাঁরা লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকে একটি চিঠি দিয়েছেন।
বিজেপির মহিলা সাংসদদের অভিযোগ, ৪ ফেব্রুয়ারি কয়েকজন বিরোধী সদস্য শাসক দলের বেঞ্চের দিকে এগিয়ে আসেন, টেবিলের ওপর উঠে পড়েন এবং প্রধানমন্ত্রীর আসন দখল করেন—যা তাঁদের ভাষায় একটি “ঘোর অপরাধ”। সাংসদদের মতে, ওই দিন লোকসভা প্রাঙ্গণের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছিল এবং অবস্থা গুরুতর ও অপ্রীতিকর পরিণতির দিকে যেতে পারত।
মহিলা সাংসদরা বলেন, এই ঘটনা ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে “সবচেয়ে কালো মুহূর্তগুলির” একটি হয়ে উঠতে পারত। বিরোধীদের হট্টগোলের কারণে সেদিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর পেশ করা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর জবাব দিতে পারেননি।
চিঠিতে বিজেপির মহিলা সাংসদরা সংসদের মর্যাদা, শালীনতা ও পবিত্রতা বজায় রাখতে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, সেদিন গোটা দেশ লোকসভা কক্ষের ভিতরে “সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ও লজ্জাজনক ঘটনাগুলির” একটি প্রত্যক্ষ করেছে।
সাংসদদের অভিযোগ, বিরোধী সদস্যরা শুধু আসনের কাছাকাছি এগিয়ে যাননি, টেবিলের ওপর উঠে পড়েন, কাগজপত্র ছিঁড়ে অধ্যক্ষের দিকে ছুড়ে মারেন। পাশাপাশি, কিছু মহিলা সাংসদ ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে শাসক দলের দিকে এগিয়ে যান এবং প্রধানমন্ত্রীর আসন পর্যন্ত পৌঁছে যান, যেখানে সাধারণত জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা বসেন।
বিজেপির মহিলা সাংসদরা জানান, এই গুরুতর উসকানি সত্ত্বেও শাসক দলের সদস্যরা জ্যেষ্ঠ নেতাদের নির্দেশে সংযম বজায় রাখেন এবং কোনও প্রতিক্রিয়ায় যাননি। তাঁদের সতর্কবার্তা, তা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এর পর বিরোধী সাংসদরা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে লোকসভার অধ্যক্ষের কক্ষের দিকে এগিয়ে যান, সেখান থেকে উচ্চস্বরে চিৎকার শোনা যাচ্ছিল।
মহিলা সাংসদরা লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে কলঙ্কিত করার মতো এমন “ঘোর অপরাধ”-এর জন্য বিরোধী সাংসদদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হোক।











