নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার বলেন, লোকসভা স্পিকার ওম বিরলার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার নোটিসে সই করতে তাঁদের দলের কোনও আপত্তি নেই। তবে এই পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিরোধী দলগুলির উচিত ছিল লোকসভা স্পিকারের সামনে নিজেদের অভিযোগ তুলে ধরা।
সংসদ ভবন চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অনাস্থা প্রস্তাব আনার আগে বিরোধীদের লোকসভা স্পিকারকে নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিরোধী দলগুলি লোকসভা স্পিকার ওম বিরলাকে পদ থেকে সরানোর দাবিতে প্রস্তাব সংক্রান্ত নোটিস লোকসভা সচিবালয়ে জমা দিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, স্পিকার পক্ষপাতদুষ্টভাবে সংসদ পরিচালনা করছেন, কংগ্রেস সাংসদদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তিনি নিজের পদমর্যাদার অপব্যবহার করেছেন।
লোকসভায় কংগ্রেসের উপনেতা গৌরব গগৈ, প্রধান সচেতক কোডিকুনিল সুরেশ ও সচেতক মহম্মদ জাভেদ লোকসভার মহাসচিব উৎপল কুমার সিংয়ের কাছে এই নোটিস জমা দেন। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে-সহ একাধিক বিরোধী দলের ১০০-রও বেশি সাংসদ এই নোটিসে সই করেছেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও সাংসদ এতে সই করেননি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “লোকসভা স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিসে সই করতে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও আপত্তি নেই। আমাদের দলের ২৮ জন সাংসদই এতে সই করবেন। কিন্তু তার আগে আমরা চাই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের দলগুলি লোকসভা স্পিকারকে একটি চিঠি দিক, যেখানে যে চারটি বিষয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।”
তিনি বলেন, “উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আটজন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই সাসপেনশন পুনর্বিবেচনা বা বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। স্পিকারকে দুই থেকে তিন দিনের সময় দেওয়া উচিত।” তাঁর মতে, যদি এই সময়ের মধ্যে স্পিকার কোনও পদক্ষেপ না নেন বা সন্তোষজনক জবাব না দেন, তবে তিন দিন পরে অনাস্থা প্রস্তাব আনা যেতে পারে। অভিষেক আরও জানান, তৃণমূল কংগ্রেস চায় লোকসভা স্বাভাবিক ও সুষ্ঠুভাবে চলুক।
সদনের কার্যক্রম বারবার স্থগিত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আমরা চাই সংসদ ঠিকমতো চলুক, কিন্তু মনে হচ্ছে কেন্দ্র সরকার তা চায় না। আজ দু’বার সংসদ মুলতবি হয়েছে এবং স্পিকার সদনে উপস্থিত ছিলেন না।”











