নয়াদিল্লি: বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী লোকসভা অধ্যক্ষ ওম বিড়লার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেছেন, স্পিকার ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে বাজেট নিয়ে আলোচনা শুরুর আগে তাঁকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু এখন সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসা হচ্ছে।
সংসদের বাজেট অধিবেশনের তৃতীয় সপ্তাহ শুরু হলেও এখনও বাজেট নিয়ে আলোচনা শুরু করা যায়নি। সোমবারও লোকসভায় অচলাবস্থা তৈরি হয় এবং প্রবল হট্টগোলের পর সারাদিনের জন্য সভা মুলতবি করে দেওয়া হয়।
এই পরিস্থিতিতে রাহুল গান্ধী আবারও অভিযোগ করেন যে, স্পিকার তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আশ্বাস দিয়েছিলেন বাজেট আলোচনা শুরুর আগে তাঁকে বলার সুযোগ দেওয়া হবে, কিন্তু এখন সেই প্রতিশ্রুতি মানা হচ্ছে না।
রাহুল গান্ধী অধিবেশনের সভাপতিত্ব করা পীঠাসীন সাংসদ সন্ধ্যা রায়কে বলেন,“প্রায় এক ঘণ্টা আগে আমরা স্পিকারের চেম্বারে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে বাজেট আলোচনা শুরুর আগে আমাকে বলতে দেওয়া হবে। আমি কি আমার বক্তব্য পেশ করার অনুমতি পাব?”
তবে সন্ধ্যা রায় স্পষ্ট করেন যে, তাঁর কাছে এ বিষয়ে কোনও নোটিস আসেনি এবং নোটিস ছাড়া কাউকে বক্তব্য রাখতে দেওয়া যায় না।
এরপর সন্ধ্যা রায় রাহুল গান্ধীর বদলে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরকে বাজেট নিয়ে কথা বলতে বলেন। থারুর সংসদের রীতিনীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে এটাই প্রথা যে বাজেট আলোচনায় প্রথমে বিরোধী দলনেতাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু বিরোধী সদস্যরা তাঁদের দাবিতে অনড় থাকেন এবং সংসদে হট্টগোল শুরু হয়। এর ফলে সভা ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করে দেওয়া হয়।
এদিকে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু রাহুল গান্ধীর অভিযোগ খারিজ করে বলেন, “অচলাবস্থা কাটাতে স্পিকার একটি বৈঠক ডেকেছিলেন। সেখানে রাহুল গান্ধীও ছিলেন, আমিও উপস্থিত ছিলাম। স্পিকার কোনও প্রতিশ্রুতি দেননি। তিনি শুধু বলেছিলেন, যদি ঐকমত্য হয়, তাহলে সব নেতাকেই বলার সুযোগ দেওয়া হবে।”
রিজিজু আরও বলেন, রাহুল গান্ধী কী বিষয়ে কথা বলতে চান, সেটাও স্পষ্ট নয়। যদি তিনি স্পিকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তাহলে স্পিকারের পক্ষ থেকেও তার জবাব দেওয়া হবে। তিনি বিরোধীদের সংসদের মর্যাদা বজায় রাখার আবেদন জানান।এদিকে বিরোধী দলগুলি স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন এবং সংসদে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, সব বিরোধী দলের সাংসদরা ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবে সই করেছেন।
কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাড্রা বলেন, “স্পিকার সাহেব নিজেই অসম্মানিত হচ্ছেন। তাঁর ওপর চাপ রয়েছে, তাই তাঁকে বারবার ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণের প্রশ্নই ওঠে না। সত্যিটা হল, সেদিন প্রধানমন্ত্রী মোদির সংসদে আসার সাহসই ছিল না।” শশী থারুর বলেন, সংসদে সবসময়ই এই রীতি চলে এসেছে যে বিরোধী দলনেতা ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী—উভয়কেই বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু এবার রাহুল গান্ধীকে বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না, অথচ মন্ত্রীকে বারবার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সংসদ আমাদের সবার। বিরোধীদেরও নিজেদের কথা বলার অধিকার রয়েছে। এক পক্ষকে সম্পূর্ণভাবে রুখে দেওয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।









