মালয়েশিয়া সফরে মোদী

IMG-20260207-WA0091

নয়াদিল্লি: দু’দিনের সফরে মালয়েশিয়া রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০২৪ সালের অগস্টে দুই দেশের মধ্যে ‘কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ গড়ে ওঠার পরে এটিই মোদীর প্রথম মালয়েশিয়া সফর। ভারতের সেমিকন্ডাক্টর সম্ভাবনার জন্য এই সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বাণিজ্য মহল। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফরে মোদী মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের সঙ্গে মত বিনিময় করবেন এবং সেখানকার ব্যবসায়ী ও শিল্প প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্যেও এই সফর বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে গোটা বিশ্বের মধ্যে ব্যাক-এন্ড সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের প্রায় ১৩ শতাংশ হয় মালয়েশিয়াতে। আউটসোর্সড অ্যাসেম্বলি, টেস্টিং এবং উন্নত প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে এই দেশের। অন্য দিকে সেমিকন্ডাকটর উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ভারতের ঘাটতি পূরণে বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক পার্টনার প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার সক্ষমতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা দুটোই রয়েছে। সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন’-এর প্রথম ভাগে অধীনে ৭৬ হাজার কোটি বিনিয়োগ হয়েছে। ২০২৬ সালের বাজেটে আইএসএম 2.0-এর অধীনে আরও ৪০ হাজার কোটি বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যেই ১.৬ লক্ষ কোটি টাকার ১০টি নতুন প্রকল্পের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফ্যাব্রিকেশন প্ল্যান্ট এবং আটটি প্যাকেজিং ইউনিট রয়েছে। আগামী দিনে সেমিকন্ডাক্টর চিপ উৎপাদনে ভারতে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। বহুস্তরীয় সেমিকন্ডাক্টর কো-অপারেশন ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে কাজ শুরু করছে দিল্লি-কুয়ালালামপুর। মোদীর সফরে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি অনুমোদিত হতে পারে। যার আওতায় অ্যাসেম্বলি ও টেস্টিংয়ে যৌথ উদ্যোগ, মেধা বিনিময়, সেমিকন্ডাকটরের জন্য পরিকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা থাকতে পারে। উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার সেমিকন্ডাক্টর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭২ সালে, যখন ইন্টেল পেনাংয়ে পাঁচ একর জমিতে একটি অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট খোলে এবং প্রায় এক হাজার লোককে নিয়োগ করে। ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে মালয়েশিয়ায় ১৪টি সেমিকন্ডাক্টর ফার্ম কাজ করছিল। চিপ ডিজাইনে বিশ্বের মোট ডিজাইন কর্মীর প্রায় ২০ শতাংশ হলো মালয়েশিয়ার।

About Author

Advertisement