উদীয়মান খাতে দায়িত্বশীল ও সম্প্রসারণযোগ্য অর্থায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া

IMG-20260202-WA0116

নয়া দিল্লি: দেশের বৃহত্তম সরকারি খাতের ঋণদাতা ভারতীয় স্টেট ব্যাংক (এসবিআই) ‘চক্র’—এক্সেলেন্স সেন্টার (সেন্টার অফ এক্সেলেন্স–সিওই) চালুর ঘোষণা করেছে। এই কেন্দ্রটি ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান খাতগুলিতে অর্থায়ন প্রদানে সহায়তা করবে। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যের প্রতি ব্যাংকের কৌশলগত অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করে, এই কেন্দ্রটি নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসইতাকেন্দ্রিক উদীয়মান খাতগুলির জন্য অর্থায়ন সক্ষম করতে একটি জ্ঞানভিত্তিক মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে।
এসবিআই দায়িত্বশীলভাবে পুঁজির প্রবাহ নিশ্চিত করা, ঝুঁকি মূল্যায়ন সক্ষমতা জোরদার করা এবং নতুন প্রজন্মের ব্যবসায়িক মডেল ও নীতিগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্ভাবনী অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তুলে এই বৃহৎ পুঁজি-নির্ভর খাতগুলিকে সক্ষম করতে চায়।
এই কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন আর্থিক পরিষেবা বিভাগের সচিব শ্রী এম. নাগরাজু, এসবিআই-এর চেয়ারম্যান শ্রী চেলা শ্রীনিবাসুলু সেট্টির উপস্থিতিতে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসবিআই-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টরসহ অন্যান্য সরকারি ব্যাংক, বৈশ্বিক ব্যাংক, বড় কর্পোরেট গোষ্ঠী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিল্প সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামোর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদাররাও উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় আর্থিক পরিষেবা বিভাগের সচিব শ্রী এম. নাগরাজু বলেন, “চক্র এক্সেলেন্স সেন্টার ভারতীয় স্টেট ব্যাংকের একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। জ্ঞান বিনিময়, প্রকল্প মূল্যায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রমাণভিত্তিক নীতিগত সংলাপের উদ্দেশ্যে একটি সমন্বিত কেন্দ্র গড়ে তোলার দৃষ্টিভঙ্গি ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর পথে ভারতের অগ্রযাত্রাকে অর্থবহ গতি দেবে।”
এই কেন্দ্রটি আটটি উদীয়মান খাতের উপর গুরুত্ব দেবে—নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অ্যাডভান্সড সেল কেমিস্ট্রি ও ব্যাটারি স্টোরেজ, ইলেকট্রিক যানবাহন, গ্রিন হাইড্রোজেন, সেমিকন্ডাক্টর, ডিকার্বনাইজেশন, স্মার্ট পরিকাঠামো এবং ডেটা সেন্টার পরিকাঠামো। এগুলি ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উঠে আসছে। আশা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই আটটি উদীয়মান খাতে ১০০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি পুঁজি বিনিয়োগ হবে, যা বাস্তবায়নে এই কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এসবিআই-এর চেয়ারম্যান শ্রী চেলা শ্রীনিবাসুলু সেট্টি বলেন, “আগামী কয়েক দশকে ভারতের প্রবৃদ্ধি নির্ভর করবে উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন এবং উন্নত উৎপাদনের উপর। ‘এসবিআই চক্র’-এর মাধ্যমে আমরা উদীয়মান খাতগুলিকে আরও ভালোভাবে বোঝা, খাতভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী অর্থায়ন সমাধান তৈরি করা এবং পরিকাঠামোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে এমন প্রকল্পকে সক্ষম করার জন্য আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছি, যা দেশের উন্নয়ন যাত্রায় বাস্তব অবদান রাখবে। এই এক্সেলেন্স সেন্টার নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি ও জলবায়ু অর্থায়নে এসবিআই-এর নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে ভারতের সংযোগ বাড়িয়ে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।”
‘চক্র’ শ্বেতপত্র (হোয়াইট পেপার), খাতভিত্তিক প্রতিবেদন, জ্ঞানভিত্তিক সিরিজ, শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে আলোচনা এবং নীতিগত সংলাপের মাধ্যমে বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাব উপস্থাপন করবে, যা গ্রাহক, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। এই কেন্দ্র উন্নয়নমূলক অর্থায়ন সংস্থা, বহুপাক্ষিক এজেন্সি, ব্যাংক, এনবিএফসি, শিল্প সংগঠন, কর্পোরেট, স্টার্ট-আপ, শিক্ষাবিদ ও থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলির সঙ্গে নিয়মিত ও কাঠামোবদ্ধ সংযোগ গড়ে তুলবে।
এসবিআই ‘চক্র’-এর মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবনকেন্দ্রিক উদ্যোগের সহায়তা এবং ভারতের টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া খাতগুলিতে পুঁজির প্রবাহ আরও কার্যকর করতে চায়। এই উদ্যোগটি স্টেট ব্যাংক অ্যাকাডেমিতে পূর্বে এমএসএমই-র জন্য প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকের এক্সেলেন্স সেন্টারের ধারাবাহিকতাকেই আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

About Author

Advertisement