‘টিম ইন্ডিয়া’ হিসেবে ভবিষ্যৎ নির্মাণে আত্মবিশ্বাসী ভারতের পুনঃ প্রতিশ্রুতি সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলার বক্তব্য

IMG-20260203-WA0210

নয়াদিল্লি: আজ মাননীয় সাংসদ শ্রী হর্ষবর্ধন শ্রিংলা রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এক প্রভাবশালী ও বিস্তৃত বক্তব্য রাখেন। তিনি আত্মবিশ্বাসী বৈশ্বিক নেতা হিসেবে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা এবং দেশের জন্য সৃষ্টি হওয়া রূপান্তরমূলক সুযোগগুলিকে তুলে ধরেন।
স্পষ্টতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রী শ্রিংলা ঐতিহাসিক ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিকে একটি যুগান্তকারী সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেন, যা ভারতীয় রপ্তানিকারক, ক্ষুদ্র শিল্প, কৃষক ও শ্রমিকদের জন্য অভূতপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি করবে। সম্প্রতি সম্পন্ন ভারত–ইউরোপীয় ইউনিয়ন অংশীদারিত্ব চুক্তি, যা আন্তর্জাতিক মহলে “মাদার অব অল ডিলস” হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে, তার সঙ্গে মিলিয়ে ভারত প্রায় ৬০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের উচ্চমূল্যের বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ নীতিকে পথপ্রদর্শক হিসেবে রেখে কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলিকে সুরক্ষা দিয়ে সফলভাবে আলোচনা পরিচালনার জন্য তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
শ্রী শ্রিংলা উল্লেখ করেন যে ভারতের গড় শুল্কহার বর্তমানে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ব্রাজিল, চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় কম। এই তুলনামূলক সুবিধা তিরুপ্পুর, কোয়েম্বাটোর, কোচি, সুরত, লুধিয়ানা ও শিলিগুড়ির মতো শ্রমনির্ভর উৎপাদন কেন্দ্রগুলিকে সরাসরি উপকৃত করবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও এমএসএমই খাতে নতুন গতি আনবে বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।
তিনি জানান, বর্তমানে ২১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ভারত–মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চলতি বছরেই ৩০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছনোর পথে রয়েছে। সেনসেক্সের উল্লেখযোগ্য উত্থান এবং রুপির শক্তিশালী অবস্থান ভারতের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশের প্রতি বৈশ্বিক আস্থার প্রতিফলন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংসদে তাঁর তথ্যভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থাপনা পরিণত অর্থনৈতিক কূটনীতির উদাহরণ হিসেবে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে।
জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শ্রী শ্রিংলা আঞ্চলিক অস্থিরতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি থেকে ভারতকে সুরক্ষিত রাখতে কৌশলগত ও বৈচিত্র্যময় তেল ক্রয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি ‘স্থিতিস্থাপকতা ও টেকসই উন্নয়ন গঠন’ শীর্ষক ভাবনায় ভারতের ব্রিকস নেতৃত্বের অধীনে সবুজ হাইড্রোজেন, নবায়নযোগ্য শক্তি, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা ও ডিজিটাল পাবলিক পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে গৃহীত উদ্যোগগুলির কথাও তিনি তুলে ধরেন।
আসন্ন ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত এখন আর শুধু নিয়ম অনুসরণকারী দেশ নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক নিয়ম নির্ধারণকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। তাঁর বক্তব্যে বৈশ্বিক প্রবণতা ও ভারতের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত ভবিষ্যতের মধ্যে গভীর সংযোগ প্রতিফলিত হয়েছে।
নিজের বক্তব্যের উপসংহারে শ্রী শ্রিংলা দৃঢ়ভাবে বলেন, ২০২৬ সালের ভারত পূর্ব ও পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলা এক জাতি। বিশ্বমঞ্চে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “একটি সংসদীয় গণতন্ত্র হিসেবে আমরা প্রাণবন্ত বিতর্ক করতে পারি, কিন্তু যখন ভারত বিশ্বদরবারে কথা বলে, তখন আমাদের সকলকে এক কণ্ঠে, এক দল হিসেবে ‘টিম ইন্ডিয়া’ এগিয়ে যেতে হবে।”
শ্রী হর্ষবর্ধন শ্রিংলার এই হস্তক্ষেপ দূরদর্শী, জাতীয় স্বার্থে নিবদ্ধ ও রাষ্ট্রনায়কসুলভ বলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে, যা পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক কৌশল এবং ভারতের বৈশ্বিক ভূমিকায় তাঁকে এক শক্তিশালী ও প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে আরও সুদৃঢ় করেছে।

About Author

Advertisement