দিনহাটা: গত বেশ কিছুদিন ধরে পানীয় জলের সমস্যায় ভুগছে শহরের একটি বিরাট অংশের মানুষ। কখনও জল এলেও তা অল্প সময় থাকছে। তাও আবার সুতোর মত করে পড়ে। আবার কখনও পাইপলাইনে ঘোলা জল পড়ছে। আর এই নোংরা জল কিংবা অল্প সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জল কিনে খেতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। গত বেশ কিছুদিন ধরে পানীয় জলের সমস্যায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। আর এই সমস্যা সমাধানে বুধবার পুরসভায় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর, মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট এবং পুর কর্তৃপক্ষের মধ্যে বৈঠক হল। বৈঠকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পানীয় জলের সমস্যা সমাধানে পুরসভার পক্ষ থেকে দুই দফতরের আধিকারিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিন এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুরসভার চেয়ারপার্সন অপর্ণা দে নন্দী, ভাইস চেয়ারম্যান সাবির সাহা চৌধুরী ছাড়াও কাউন্সিলরদের চঞ্চল সাহা, সম্ভব অধিকারী, বাবলু সাহা, প্রদান করনি জগদীশ সেন ছাড়াও দুই দফতরের ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকরা।
এদিকে দিনহাটা পুর এলাকার বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দিতে এক বছর আগেই শুরু হয়েছিল অমৃত ২.০ প্রকল্প। সেই প্রকল্পের কাজ চলছে ধীর গতিতে। পাশাপাশি পুরনো পাইপলাইনে পানীয় জল সরবরাহ ঠিকমত হচ্ছে না। এর ফলে অধিকাংশ ওয়ার্ডেই পানীয় জলের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় মাসকয়েক আগেও পুরসভার পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কাউন্সিলরদের একটি প্রতিনিধি দল জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের জেলা আধিকারিকদের সাথে দেখা করে সমস্যার সমাধানের দাবি জানান। তারপরেও জলের সমস্যার আজও সমাধান না হওয়ায় প্রতিদিন জল কষ্টে ভুগতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এদিকে গত কয়েকদিন ধরে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পানীয় জলের সমস্যা নতুন করে দেখা দিয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে সেই সব ওয়ার্ড গুলিতে সাময়িকভাবে জলের ট্যাংক পাঠিয়ে কিছুটা হলেও সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছে। কোনরকমে জলের ট্যাংকি পাঠিয়ে সাময়িক সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হলেও আর এ দিয়ে সমস্যা মিটছে না বলেই অভিযোগ। শহরের মহরম মাঠ, পাঁচ নাম্বার ওয়ার্ড বিভিন্ন এলাকায় যে মেশিনগুলি রয়েছে সেগুলি অনেক পুরনো হয় নানাভাবে সমস্যা দেখাইতে শুরু করেছে। এসব নিয়ে ক্রমেই ক্ষোভ বেড়ে চলছে। এদিন বৈঠক শেষে পুরসভার চেয়ারম্যান অপর্না দে নন্দী,ভাইস চেয়ারম্যান সাবির সাহা চৌধুরী জানিয়েছেন, শহরে পানীয় জল সরবরাহ নিয়ে বাসিন্দাদের কাছে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। যত দিন যাচ্ছে বিষয়টি জটিল হচ্ছে। এর পিছনে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা রয়েছে। সমস্যা সমাধানে যে সংস্থাগুলি কাজ করছে তাদের তৎপরতার অভাব রয়েছে। সেসব নেই আজকে পুরসভাতেই দুই দফতরের সিভিল ও কানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে বৈঠক হয়। পানীয় জলের এই সমস্যা সমাধানে যে প্রজেক্ট রয়েছে তা শেষ করতে প্রায় বছরখানেক লেগে যাবে। শহরবাসি পানীয় জলের সমস্যার জন্য যেভাবে নাজেহাল হচ্ছে তা থেকে তাদেরকে রক্ষা করতে সমস্যাগুলি দ্রুত সমাধানের জন্য পুরসভার পক্ষ থেকে দুই বিভাগের আধিকারিকদের দুই সপ্তাহ সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করার জন্য দুই দফতরের ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকদের বলা হয়েছে। এ নিয়ে আমরা মন্ত্রী উদয়ন গুহ র সাথেও আলোচনা করেছি। তিনিও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের মন্ত্রীর সাথে এ নিয়ে কথা বলেছেন। আশা করছি এই সমস্যা দ্রুত মিটে যাবে।










