দুবাই: টি-২০ বিশ্বকাপের আগে চলমান বিতর্ক গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছে। ভারতে ম্যাচ না খেলার দাবিতে অনড় থাকার কারণে আইসিসি প্রথমে বাংলাদেশকে এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়েছে। বাংলাদেশের বাদ পড়ার পর এবার পাকিস্তান নাটক শুরু করেছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)-এর চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এর পর থেকেই জল্পনা তীব্র হয়েছে যে পাকিস্তান হয় পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট করতে পারে, নয়তো ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করতে পারে। তবে এমন সিদ্ধান্তের গুরুতর আইনি ও আর্থিক পরিণতি হতে পারে।
আসলে, টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে পাকিস্তানে চলা রাজনীতি ও কূটনীতি ক্রিকেট মাঠের বাইরেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পিসিবি অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ডের মতোই আইসিসির মেম্বার পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্টে স্বাক্ষর করেছে, যা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। ফলে কোনও টুর্নামেন্ট বা ম্যাচ বয়কট করা সরাসরি আইসিসির নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে পিসিবির ওপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে এবং সম্প্রচার সংস্থাগুলির পক্ষ থেকেও মামলা দায়ের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বেশি দর্শক টানা ম্যাচ হিসেবে ধরা হয়। রেভস্পোর্টসের রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধুমাত্র এই ম্যাচ থেকেই বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ডেড প্রোগ্রামিং ও স্পনসরশিপের মাধ্যমে প্রায় ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৪৮ কোটি টাকা) আয় জড়িত থাকে। পাকিস্তান যদি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করে, তবে সম্প্রচারকারীরা পিসিবির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা করতে পারে। এতে বোর্ডের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৩৪৮ কোটি টাকা আয় সরাসরি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ওপর নির্ভরশীল।
পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি সোমবার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হলেও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। নকভি সামাজিক মাধ্যমে জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভালো বৈঠক হয়েছে এবং তাঁকে আইসিসি সংক্রান্ত বিষয়গুলি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সব বিকল্প খোলা রেখে সমাধান খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুক্রবার বা আগামী সোমবার নেওয়া হতে পারে।
মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান যদি ফাঁকা হুমকি ও জেদ ধরে রেখে বিশ্বকাপে খেলতে অস্বীকার করে, তবে আইসিসি কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে। আইসিসি পাকিস্তানের ওপর একাধিক ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে, যার মধ্যে সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ স্থগিত করা অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ কোনও দলই পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে না। শুধু তাই নয়, পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণেও বাধা দেওয়া হতে পারে এবং তাঁদের অনাপত্তি শংসাপত্র (এনওসি) দেওয়া নাও হতে পারে। এছাড়া, পাকিস্তান দল এশিয়া কাপেও অংশ নিতে পারবে না।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পিসিবির আর্থিক কাঠামো মূলত আইসিসির রাজস্ব, পাকিস্তান সুপার লিগ এবং সম্প্রচার স্বত্বের ওপর নির্ভরশীল। এর পাশাপাশি, পাকিস্তান যদি টি-২০ বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পুনরায় অন্তর্ভুক্তি হতে পারে। হাইব্রিড মডেল অনুযায়ী পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা। ফলে পাকিস্তান পিছিয়ে গেলে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এতে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলার দাবিও পূরণ হবে এবং একই সঙ্গে পাকিস্তান উপযুক্ত শিক্ষা পাবে।








