জাপানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আবে হত্যাকারীর সাজা ঘোষণ

2022-07-10T121509Z_781204033_RC2P8V9D96MQ_RTRMADP_3_JAPAN-ABE-1-1761632707

টোকিও: জাপানের একটি আদালত দেশটির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে হত্যার দায় স্বীকারকারী এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘জাপান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন’ এ তথ্য জানিয়েছে। এই মামলাটি জাপানের ক্ষমতাসীন দল এবং দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিতর্কিত চার্চের মধ্যে কয়েক দশক ধরে থাকা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে।
তেতসুয়া ইয়ামাগামি (৪৫) ২০২২ সালের জুলাই মাসে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নারা-তে নির্বাচনী প্রচারের সময় ভাষণরত অবস্থায় শিনজো আবে-কে হত্যার দায় স্বীকার করেছিলেন। নারা জেলা আদালত রায় বহাল রেখে প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে ইয়ামাগামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে।
নির্বাচনী প্রচারের সময় আবে-র হত্যা:
জাপানের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা শিনজো আবে ২০২২ সালে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নারা-তে নির্বাচনী প্রচারের সময় নিহত হন। সে সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়ে দিয়ে একজন সাধারণ সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করছিলেন। কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দেশ জাপানকে এই ঘটনাটি গভীরভাবে নাড়া দেয়। ইয়ামাগামি জানান, ‘ইউনিফিকেশন চার্চ’-এর সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠীর কাছে পাঠানো আবে-র ভিডিও বার্তা দেখার পরই তিনি তাকে হত্যা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, চার্চটির ক্ষতি করা এবং আবে-র সঙ্গে এর সম্পর্ক প্রকাশ করাই ছিল তার উদ্দেশ্য।
প্রসিকিউশন ইয়ামাগামির জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন জানায়, অন্যদিকে তার আইনজীবীরা ২০ বছরের বেশি সাজা না দেওয়ার অনুরোধ করেন এবং চার্চের অনুসারী বাবা-মায়ের সন্তান হিসেবে তার ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। জাপানি আইনে হত্যার ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও, সাধারণত অন্তত দুইজন নিহত না হলে প্রসিকিউশন মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করে না।
পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার:
ক্ষমতাসীন লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ও চার্চের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসার পর দলটি চার্চ থেকে দূরত্ব বজায় রাখে। এই হত্যাকাণ্ডের পর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানোর দিকেও কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নিয়েছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, ২০২২ সালের ৮ জুলাই নারা-র একটি রেলস্টেশনের বাইরে ভাষণ দেওয়ার সময় আবে-কে গুলি করা হয়। টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়া ফুটেজে দেখা যায়, নেতা মুঠি তুলতেই পরপর দুই রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায় এবং তিনি বুক চেপে ধরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন; তার শার্টে রক্তের দাগ দেখা যাচ্ছিল।
ঘটনাস্থল থেকেই ইয়ামাগামিকে আটক করা হয়। তিনি জানান, প্রথমে ‘ইউনিফিকেশন চার্চ’-এর নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু তার কাছাকাছি পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় লক্ষ্য বদলে শিনজো আবে-কে নিশানা করে।

About Author

Advertisement