দুবাই: যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থা রবিবার জানিয়েছে যে, ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনে চালানো সহিংস অভিযানে কমপক্ষে ৩,৯১৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে, এবং প্রকৃত সংখ্যা এর থেকেও বেশি হতে পারে। তবে অন্য একটি সূত্র অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তারা মৃতের সংখ্যা ৫,০০০-এর বেশি বলে স্বীকার করেছেন।
‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ সংশোধিত মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করেছে, যা আগে ছিল ৩,৩০৮। এটি কয়েক দশকের মধ্যে ইরানের কোনো বিক্ষোভ বা অস্থিরতায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা এবং ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে এই পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
খামেনেই স্বীকার করলেন “হাজার হাজার” নিহত:
ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সুনির্দিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা ঘোষণা করেনি। তবে শনিবার দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই স্বীকার করেন যে, বিক্ষোভে “হাজার হাজার” মানুষ নিহত হয়েছে এবং এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। এটি প্রথমবার যখন কোনো ইরানি নেতা ২৮ ডিসেম্বর দুর্বল অর্থনীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভে ব্যাপক প্রাণহানির কথা স্বীকার করলেন।
‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’র মতে, বিক্ষোভ দমনে চালানো অভিযানে ২৪,৬৬৯ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করলেন:
ইরানি কর্মকর্তারা বারবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য দায়ী করে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার সতর্ক করেছেন যে, ইরানি সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করে, তবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রবিবার ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন যে, দেশের মানুষের দুর্দশার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আরোপিত “দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতাপূর্ণ ও অমানবিক নিষেধাজ্ঞা” দায়ী।
তিনি লেখেন, “আমাদের দেশের সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন পুরো ইরানি জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য।”
বর্তমান পরিস্থিতি:
কয়েকদিন ধরে নতুন কোনো বড় বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি এবং রাস্তায় আপাত শান্তি বিরাজ করছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শনিবার রাতে তেহরান, শিরাজ ও ইসফাহানের কিছু এলাকায় মানুষ ঘরের জানালা দিয়ে খামেনেইর বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ ৮ জানুয়ারি থেকে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল। শনিবার কিছু সময়ের জন্য সীমিতভাবে চালু হলেও রবিবার গুগলের মতো কিছু পরিষেবা চালু থাকলেও ব্যবহারকারীরা কেবল অভ্যন্তরীণ (দেশীয়) ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারছিলেন; ইমেইল পরিষেবা এখনো বন্ধ রয়েছে।










