নয়াদিল্লি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, যেসব দেশ গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের অধীনে নেওয়ার তার পরিকল্পনার সঙ্গে একমত হবে না, তাদের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের সময় ট্রাম্প বলেন, যারা গ্রিনল্যান্ড-সংক্রান্ত তার পরিকল্পনাকে সমর্থন করবে না, তারা শুল্কের আওতায় পড়তে পারে।
ন্যাটো সদস্য ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করেননি কোন কোন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। পাশাপাশি, তিনি এটাও জানাননি যে এই ধরনের শুল্ক আরোপের জন্য তিনি কোন আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করবেন।
ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডসহ একাধিক দেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এই ভূখণ্ড দখলের প্রস্তাব নিয়ে সমালোচনা চলছে। এর মধ্যেই মার্কিন কংগ্রেসের ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গ্রিনল্যান্ড সফরে গিয়েছিল, যেখানে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাও ছিলেন। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চাইছেন।
প্রতিনিধিদলের নেতা এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস বলেন, তাদের সফরের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় মানুষের মতামত শোনা এবং পরিস্থিতি শান্ত করা। গ্রিনল্যান্ডের সংসদ সদস্য আজা খেম্নিৎস মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, “আমাদের বন্ধু ও সহযোগীদের প্রয়োজন।
ট্রাম্প দাবি করেছেন যে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ওয়াশিংটন “সহজ পথ” বা “কঠিন পথ” অবলম্বন করে ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। তার মতে, গ্রিনল্যান্ড উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিকের মাঝখানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত, যা ক্ষেপণাস্ত্র পূর্ব-সতর্কতা ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক নজরদারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে ১০০ জনের বেশি সেনা স্থায়ীভাবে মোতায়েন করে আসছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এই এলাকা ক্ষেপণাস্ত্র নজরদারি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ডেনমার্কের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানে সেনা মোতায়েন করতে পারে।
তবে ট্রাম্প রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য হুমকির কথা উল্লেখ করে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের “স্বত্বাধিকার”-এ নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। অন্যদিকে ডেনমার্ক সতর্ক করেছে যে, সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে ন্যাটো সংকটে পড়তে পারে।
ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো ডেনমার্ককে সমর্থন জানিয়ে বলেছে যে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো ন্যাটোর যৌথ দায়িত্ব হওয়া উচিত। ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য গ্রিনল্যান্ডে সীমিত সংখ্যক সেনা পাঠিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শিগগিরই স্থল, আকাশ ও নৌসম্পদ সেখানে মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন।









