নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার বলেছেন, ভারত তার বৈচিত্র্যকে গণতন্ত্রের শক্তিতে পরিণত করেছে এবং বিশ্বকে দেখিয়েছে যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়াগুলি দেশের উন্নয়নে স্থিতিশীলতা, গতি এবং পরিসর (স্কেল) প্রদান করে। কমনওয়েলথ দেশগুলির সংসদের স্পিকার ও পীঠাসীন কর্মকর্তাদের ২৮তম সম্মেলন (সিএসপিওসি)-এর উদ্বোধন করে তিনি আরও বলেন, ভারতীয় গণতন্ত্র একটি বিশাল গাছের মতো, যার শিকড় গভীরে প্রোথিত।
বৈচিত্র্যই ভারতের শক্তি:
তিনি বলেন, “ভারত স্বাধীনতা পাওয়ার সময় অনেকেরই সন্দেহ ছিল যে এত বৈচিত্র্যের মধ্যে গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারবে কি না। কিন্তু এই বৈচিত্র্যই ভারতীয় গণতন্ত্রের শক্তিতে পরিণত হয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এমনও আশঙ্কা ছিল যে গণতন্ত্র যদি শিকড় গাড়ে তবুও ভারতের এগিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। এই সব সন্দেহের বিপরীতে ভারত প্রমাণ করেছে যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়াগুলি তার উন্নয়নে স্থিতিশীলতা, স্কেল এবং গতি এনে দেয়।
গণতন্ত্রের অর্থ সবার উন্নয়ন:
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতে বিতর্ক, সংলাপ এবং সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। তিনি বলেন, “ভারতে গণতন্ত্রের অর্থ হলো সমাজের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পরিষেবার পৌঁছানো।” তিনি আরও জানান, ভারত প্রতিটি বৈশ্বিক মঞ্চে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর উদ্বেগ দৃঢ়ভাবে তুলে ধরছে। মোদী বলেন, “জি-২০ সভাপতিত্বের সময়ও ভারত ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর অগ্রাধিকারগুলিকে বৈশ্বিক এজেন্ডার কেন্দ্রে রেখেছিল।
১৪ থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে সম্মেলন:
সংবিধান সদন (পুরনো সংসদ ভবন)-এর কেন্দ্রীয় কক্ষে ১৪ থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রায় ৬০ জন স্পিকার ও পীঠাসীন কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন। এখানে সমসাময়িক বিভিন্ন সংসদীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যার মধ্যে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও ধরে রাখার ক্ষেত্রে স্পিকার ও পীঠাসীন কর্মকর্তাদের ভূমিকা অন্যতম। পাশাপাশি সংসদীয় কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ব্যবহার, সংসদ সদস্যদের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব, সংসদ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর নতুন কৌশল এবং ভোটদানের বাইরে নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি নিয়েও এই সম্মেলনে আলোচনা চলছে।










