২৩ বছর পুরনো প্রক্রিয়া থেকে সরে আসছে কমিশন: মমতা

1200-675-25797663-thumbnail-16x9-mamta

কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ নাগরিকদের কথিত হয়রানির অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ফের একটি কড়া চিঠি লিখেছেন। নির্বাচন কমিশনকে লেখা এটি তাঁর পঞ্চম চিঠি, যেখানে তিনি এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত ২৩ বছরে হাজার হাজার ভোটার ফর্ম-৮ জমা দিয়ে এবং বৈধ সরকারি নথি প্রদর্শনের মাধ্যমে, ইআরও/এএইআরও-র আধা-ন্যায়িক শুনানির পর ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
এখন কমিশন সেই একই প্রক্রিয়াগুলিকে উপেক্ষা করে ভোটারদের পুনরায় পরিচয় ও যোগ্যতা প্রমাণ করতে বাধ্য করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—কমিশন কি তবে নিজেরই দুই দশকের কাজকে অবৈধ বলে মানতে চাইছে? তাহলে কি আগের সব সংশোধনই ভুল ছিল? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার নির্দেশকে “অযৌক্তিক ও অসাংবিধানিক” বলে আখ্যা দেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০০২ সালের তালিকার ডিজিটাল রেকর্ড না থাকায় এআই-ভিত্তিক স্ক্যান ও ইংরেজি অনুবাদের সময় নাম, বয়স, লিঙ্গ ও অভিভাবকের নামের মতো তথ্যের ক্ষেত্রে গুরুতর ভুল হচ্ছে।
এই প্রযুক্তিগত ত্রুটিগুলির ভিত্তিতেই ভোটারদের ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ দেখিয়ে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন, বহু ক্ষেত্রে নাগরিকরা নথি জমা দেওয়ার পরও রসিদ পাচ্ছেন না, পরে নথি পাওয়া যায়নি—এই অজুহাতে নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে, যা পুরো প্রক্রিয়াটিকেই “মূলগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ” করে তুলছে। মুখ্যমন্ত্রী মত দেন, নামের বানান বা বয়সের মতো ছোটখাটো ভুল দপ্তরেই সংশোধন করা যেতে পারে; এর জন্য মানুষকে ডেকে এনে হয়রানি করা অনাবশ্যক। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে এই “অন্যায্য নিপীড়ন” বন্ধ করা এবং নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবি জানান।

About Author

Advertisement