কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ভারতের শীর্ষ গৃহস্থালি কীটনাশক ব্র্যান্ড ‘গুডনাইট’-এর প্রস্তুতকারক কোম্পানি গোদরেজ কনজিউমার প্রোডাক্টস লিমিটেড (জিসিপিএল)-এর সঙ্গে যৌথভাবে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য ছিল এলাকায় নকল গুডনাইট রিফিলের বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করা। জিসিপিএলের তদন্ত সংস্থার সহযোগিতায় করা এই অভিযানকে বাজারে ছড়িয়ে পড়া নকল মশা তাড়ানোর পণ্যগুলোর বিরুদ্ধে একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকা তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ ও তদন্ত দল নকল পণ্য থাকার সন্দেহে খুচরা দোকান ও মজুতকেন্দ্রগুলোতে হানা দেয়। অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ নকল গুডনাইট সামগ্রী উদ্ধার করা হয়, যা থেকে বোঝা যায় যে নকল পণ্য উৎপাদন ও বিতরণে একটি সুপরিকল্পিত চক্র জড়িত।
উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড়ে আলী হায়দার রোডে অবস্থিত একটি রিফিলিং ইউনিট থেকে ২,৫৪০টি গুডনাইট ফ্ল্যাশের প্রস্তুত টুইন-রিফিল প্যাক (প্রতি ৯০ মিলি), ৬০০ ভরা বোতল, ১,৮৬০ খালি বোতল, ৬,২০০ লেবেল এবং ৬,৫০০ প্যাকিং বক্স জব্দ করা হয়। একইভাবে, টিটাগড়ের এনএস পাথে অবস্থিত একটি স্টকিস্ট ইউনিট থেকে ১,৯৫০ টুইন-রিফিল প্যাক এবং খড়দহের মীরা স্টোর (সরবরাহকারী) থেকে ৫০০ প্যাক উদ্ধার হয়। বেলঘরিয়ার আচার্য স্টোর্স থেকে ৬৭ টুইন-রিফিল প্যাক এবং পানিহাটির মা তারা ভান্ডার থেকে ১৬৫ টুইন-রিফিল প্যাকসহ একটি মেশিন কম্বো প্যাকও জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ স্টেশন রোডে অবস্থিত মা বসন্তি ভান্ডার থেকে ৫৬৯ টুইন-রিফিল প্যাক এবং কাকদ্বীপ এলাকার কালী মন্দির রোডে অবস্থিত বসন্তি স্টোর্স থেকে ২৫৫ পিস উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং কপিরাইট আইন, ১৯৫৭-এর বিভিন্ন ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কর্মকর্তারা এখন সরবরাহ শৃঙ্খল ও ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের খোঁজ করছেন, যাতে পশ্চিমবঙ্গ এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের প্রসার রোধ করা যায়। এই অভিযান নকল পণ্য বিক্রেতাদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবেও কাজ করবে এবং ভোক্তা আস্থার সুরক্ষায় জিসিপিএলের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।
এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে গোদরেজ কনজিউমার প্রোডাক্টস লিমিটেড-এর সিএমও অশ্বিন মূর্তি বলেন, “দেশজুড়ে নকল পণ্যের বিস্তার এফএমসিজি শিল্পের জন্য একটি বড় উদ্বেগ। নকল বা দেখতে একই রকম পণ্য শুধু অবৈধই নয়, মানুষের স্বাস্থ্যর জন্য ক্ষতিকর এবং বিপজ্জনকও। জিসিপিএল তার আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নতুন ও উন্নত পণ্য উন্নয়নে বিনিয়োগ করে, এবং গুডনাইট তার অন্যতম বড় উদাহরণ। আমরা আমাদের বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলিতভাবে নিয়মিতভাবে গুণগত মান পরীক্ষা করে আসছি। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এই উদ্যোগ রাজ্যজুড়ে নকল গুডনাইট পণ্যের প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতাদের কার্যকলাপের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আনতে সাহায্য করবে।










