ডুভার্স: একদিন আগে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে ঘোষণা করেন রাজ্যে চতুর্থবারের মতো চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করা হবে। রবিবার দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে দাবি করেন, ‘নতুন শ্রম আইন বাস্তবায়িত হলে শ্রমিকরা ন্যূনতম দৈনিক মজুরি ৩৫০ টাকা পাবে। অর্থাৎ ভোটের আগে চা শ্রমিকদের বেতন সংগ্রহ করা হবে। দুটি ফুল চোখে পড়েছে।
শ্রমিকদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে শ্রম আইন চালু করা হয়েছে। প্রতিটি রাজ্যে এই আইন বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক। রবিবার শ্রীলঙ্কা সফরে আসা কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডভ্যা এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দেশজুড়ে চারটি শ্রমবিধি চালু করা হয়েছে। ফলস্বরূপ, শ্রমিকদের পর্যাপ্ত মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সমস্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা উচিত।’ নিয়োগকর্তা বাধ্য থাকবেন।
যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদ এবং শ্রম বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য। তাঁর বক্তব্য, ‘শ্রম আইন কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ বিষয়। রাজ্যগুলির বিরোধিতা থাকলে কেন্দ্র তা বাস্তবায়ন করতে পারে না। কিন্তু বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের বিরোধিতা উপেক্ষা করে এই আইন বাস্তবায়ন করেছে। রাজ্য এই শ্রমবিরোধী আইন অনুসরণ করতে বাধ্য নয়।
রবিবার শিলিগুড়ি উত্তরবঙ্গ মাধোয়ারী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনসুখ মান্ডভ্য ভবনে চা বাগানের শ্রমিকদের সাথে মতবিনিময় করতে দেখা করেন। সমতল ভূমি ছাড়াও পাহাড়ের কিছু চা বাগানের শ্রমিককেও সেখানে উপস্থিত করা হয়েছিল। বিজেপির সাথে জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলির শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এই সভায় উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ থাকলেও, তৃণমূল চা শ্রমিক সংগঠনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। যদিও সাংসদ রাজুর দাবি করেছেন যে সমস্ত সংগঠনকে ডাকা হয়েছিল।
আজকের বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ‘চা শ্রমিকদের জন্য অনেক পুরনো আইন এত দিন ধরেই বলবৎ ছিল। বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা নতুন শ্রম আইন প্রণয়ন করেছি। এই শ্রমবিধির আওতায় সকল শ্রমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা পাবেন।’ ভারত সরকার ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছে, শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা। আইএসআই, গ্র্যাচুইটি সহ অন্যান্য সকল সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে। একটি চা বাগানে ১০ জন শ্রমিক থাকলেও, এই আইনের মাধ্যমে তাদের সেই সুযোগ দিতে হবে। অতএব, পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি প্রতিটি রাজ্যে এই আইন বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক।
আজকের সভায় তিনি ছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু। তিনি দাবি করেন, ‘অভিষেক বন্ধ্যোপা ধ্যায় চা শ্রমিকদের জন্য ৩০০ টাকা মজুরির কথা বলছেন। কিন্তু এত বছর তারা কী করলেন?’ ভোটের আগে, উত্তরবঙ্গের চা বাগানে রাজ্য সরকারের স্কুল বাস দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেন রাজু। তিনি বলেন, ‘এটি কোনও স্কুল বাস নয়, এটি একটি নির্বাচনী বাস। ১৫ বছর ধরে রাজ্য সরকার চা শ্রমিকদের সন্তানদের কথা ভাবেনি। এখন ভোটের সময় স্কুল বাস দেওয়া হচ্ছে। চা শিল্পে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু রাষ্ট্র তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।









