কেরালা ভিশনের পশ্চিমবঙ্গ প্রবেশের সঙ্গে অল-ইন্ডিয়া সম্প্রসারণ ঘোষণা, স্থানীয় অপারেটরদের শক্তিশালী করতে বলাজি ইউনিভার্সালের সঙ্গে অংশীদারিত্ব

IMG-20251220-WA0104

কলকাতা: কেরালা কমিউনিকেটর্স কেবল লিমিটেড (কেসীসীএল), কেরালায় ৭০ শতাংশেরও বেশি বাজার-হিস্সা নিয়ে ভারতের অন্যতম শীর্ষ মাল্টি-সিস্টেম অপারেটর (এম এস ও), আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গে তাদের কৌশলগত প্রবেশের ঘোষণা দিয়েছে। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপটি কোম্পানির “প্যান ইন্ডিয়া মুভমেন্ট”-এর সূচনা হিসেবে বিবেচিত, যার লক্ষ্য কেরালায় সফল প্রমাণিত “অপারেটর-স্বত্বাধিকারী ও অপারেটর-নেতৃত্বাধীন” ব্যবসায়িক মডেলকে পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সম্প্রসারণ করা। এ উপলক্ষে কেসীসীএল পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশে শক্তিশালী অবকাঠামো-সমৃদ্ধ ক্যাটেগরি ‘এ’ আইএসপি বলাজি ইউনিভার্সাল-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করে সেবার নির্বিঘ্ন সম্প্রসারণের পথ প্রশস্ত করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য শিল্পনেতাদের উপস্থিতি ছিল। এর মধ্যে কেবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (সীওএ)-এর সভাপতি শ্রী প্রভীন মোহন এবং কেসীসীএল ও কেরালা ভিশন ব্রডব্যান্ড লিমিটেড (কেভীবীএল)-এর শীর্ষ নেতৃত্ব, ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রী সুরেশকুমার পি.পি., নির্বাহী পরিচালক শ্রী রাজন কে.ভি., নির্বাহী পরিচালক শ্রী সুরেশকুমার সি., প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শ্রী পদ্মকুমার এন., এবং বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেন। এই নেতৃত্বপূর্ণ উপস্থিতিই পশ্চিমবঙ্গ প্রবেশের কৌশলগত গুরুত্ব ও শিল্প-পরিসরে তার প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।
অপারেটর সম্প্রদায়ের গুরুত্ব তুলে ধরে সীওএ এর সভাপতি শ্রী প্রভীন মোহন বলেন, “বছরের পর বছর দেশের অপারেটররা এমন একটি মডেলের খোঁজে ছিলেন যা তাদের ভূমিকার মর্যাদা দেবে এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবে। কেসীসীএল কেরালায় ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে। অপারেটররা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারানো ছাড়াই উন্নতি করতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে তাদের আগমন শিল্পে বিশ্বাস, নির্ভরযোগ্যতা এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ভারসাম্য এনে দেবে।”
কেসীসীএল এর মডেল মূলত সমষ্টিগত দৃষ্টিভঙ্গির শক্তি। কেরালায় ওটীটী এর চ্যালেঞ্জ এবং ক্রমবর্ধমান চ্যানেল-মূল্যের মধ্যেও আমরা সফলভাবে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি, এবং বর্তমানে আমাদের কেবল-টিভি গ্রাহক সংখ্যা ৩০ লাখেরও বেশি,”
বলেন কেসীসীএল ও কেভীবীএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রী সুরেশকুমার পি.পি.।
“ভারতের পঞ্চম বৃহত্তম তারযুক্ত ইন্টারনেট পরিষেবা-প্রদানকারী (আইএসপি) হিসেবে আমরা বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে অপারেটরদের মাধ্যমে তারযুক্ত ব্রডব্যান্ড প্রসারে গুরুত্ব দিচ্ছি। এর ফলে অপারেটররা নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করে গ্রাহকদের জন্য বহু-সেবাভিত্তিক ব্রডব্যান্ড সুবিধা দিতে সক্ষম হবেন। আমাদের লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গে সর্বোচ্চ ব্রডব্যান্ড প্রসার ঘটিয়ে অপারেটরদের শক্তিশালী করা এবং রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করা,” উল্লেখ করেন কেসীসীএল ও কেভীবীএল এর সীওও শ্রী পদ্মকুমার এন.,
পশ্চিমবঙ্গে কেসীসীএল এর সম্প্রসারণের পিছনে ছিল রাজ্যের বিপুল সম্ভাবনা, ১১ কোটিরও বেশি জনসংখ্যা এবং কেরালার সঙ্গে সাংস্কৃতিক মিল ছিল এর অন্যতম ভিত্তি। সে সময় কেসীসীএল এর ৩০ লাখ কেবল-গ্রাহক ও ১৪ লাখ ব্রডব্যান্ড-গ্রাহক ছিল, এবং কোম্পানি পূর্ব ভারতে ডিজিটাল কেবল টিভি, হাই-স্পিড ব্রডব্যান্ড, আইপিটিভি, ওটিটি অ্যাগ্রিগেশন ও এন্টারপ্রাইজ-সমাধান প্রদানের পরিকল্পনা করে। পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ শক্তিশালী করতে প্রায় ১০ কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগে এক লাখ সেট-টপ বক্স (এসটিবি ) বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়, এবং দীর্ঘমেয়াদে ২৫% বাজার-হিস্সা, অর্থাৎ ১৫ লাখ কেবল-গ্রাহক অর্জনের লক্ষ্য স্থির করা হয়। পাশাপাশি নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ও ব্রডব্যান্ড ইকোসিস্টেম উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগের পরিকল্পনাও ছিল।
কেরালা ভিশনের এই যাত্রার কেন্দ্রবিন্দু ছিল স্থানীয় কেবল অপারেটরদের (এলসীও) কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া। প্রচলিত কর্পোরেট মডেলের বাইরে গিয়ে কেসীসীএল অপারেটরদের প্রধান স্টেকহোল্ডার হিসেবে বিবেচনা করে—বিমা, কর্মসংস্থান-সৃজনসহ সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জোর দেয়। ধারণা করা হয়, প্রতিটি অংশীদার অপারেটরের পরিসর অনুযায়ী ২ থেকে ৩টি স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বলাজি ইউনিভার্সালের বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে এবং একই সঙ্গে নতুন ওভারহেড ও আন্ডারগ্রাউন্ড ফাইবার-অপ্টিক কেবল স্থাপন করে কেসীসীএল একটি ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত, সাশ্রয়ী ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
পশ্চিমবঙ্গে কেসীসীএল এর এই প্রবেশ শুধুমাত্র ভৌগোলিক সম্প্রসারণ নয়, বরং পূর্ব ভারতের কেবল ও ব্রডব্যান্ড-ব্যবস্থার প্রতি কোম্পানির দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতীক। এটি এম এস ও -অপারেটর সম্পর্কের গঠনমূলক পরিবর্তনের পথ খুলে দিয়ে সহযোগিতা, যৌথ প্রবৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাকে ডিজিটাল-প্রথম বাজারের কেন্দ্রে স্থাপন করেছে; পাশাপাশি ওডিশা, অসম, উত্তর-পূর্ব, বিহার ও ঝাড়খণ্ডে সম্প্রসারণ-পরিকল্পনাকে গতি দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে অনুষ্ঠিত অংশীদার-সভাগুলোর মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তা এবং কেবল-অপারেটরদের এই বৃহত্তর যাত্রায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

About Author

Advertisement