নয়াদিল্লি: শীতকালে শরীর নিজেকে গরম রাখতে রক্তনালীগুলো সঙ্কুচিত করে। এতে রক্তচাপ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। যখন কেউ উষ্ণ রজাই বা বিছানা থেকে সরাসরি ঠান্ডা টয়লেটে যায়, এই হঠাৎ পরিবর্তন হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ ফেলে। তাই শীতের সময় হার্ট অ্যাটাক ও ব্রেন স্ট্রোকের ঘটনা দ্রুত বাড়তে পারে। বিশেষ করে তীব্র শীতে টয়লেটে থাকা অবস্থায় হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। মনে করা হয়—হঠাৎ তাপমাত্রা বদলে যাওয়া, রক্তচাপের দ্রুত বৃদ্ধি এবং হৃদ্যন্ত্রে পড়া আকস্মিক চাপ—এসব কারণেই শীতকালে বাথরুমেই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এসব কারণ বোঝা খুব জরুরি, কারণ সময়মতো সতর্ক থাকলে প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
শীতে রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যায়:
শীতকালে শরীর উষ্ণতা ধরে রাখতে রক্তনালীগুলো সঙ্কুচিত করে, ফলে রক্তচাপ দ্রুত বাড়ে। উষ্ণ রজাই বা বিছানা থেকে সরাসরি ঠান্ডা টয়লেটে গেলে এই আকস্মিক পরিবর্তন হৃদ্যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে। তাই আগেই যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্রোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
টয়লেটে অতিরিক্ত জোর করা:
একটি প্রতিবেদনের মতে, শীতকালে কোষ্ঠকাঠিন্য সাধারণ সমস্যা। টয়লেটে বেশি জোর করলেই সরাসরি হার্ট অ্যাটাক না-ও হতে পারে, কিন্তু হৃদ্স্পন্দন ও রক্তচাপ হঠাৎ বদলে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ভালসালভা ম্যানুভার বলা হয়। দুর্বল হৃদ্যন্ত্রযুক্ত বা হৃদ্রোগীদের জন্য এই অবস্থা হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকের কারণ হতে পারে।
হঠাৎ গরম–ঠান্ডার পার্থক্য বিপজ্জনক হতে পারে
গরম ঘর থেকে একেবারে ঠান্ডা টয়লেটে যাওয়া শরীরের জন্য এক ধরনের ধাক্কার মতো। তাপমাত্রার এই আকস্মিক পরিবর্তনে হৃদ্স্পন্দন বিঘ্নিত হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও হৃদ্রোগীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও গুরুতর হয়।
সকালে ঝুঁকি বেশি কেন?
সকালে শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেশি থাকে এবং রক্ত কিছুটা ঘন হয়। সেই সময় টয়লেটে গেলে হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়। তাই সকালবেলায় হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা বেশি দেখা যায়।
শীতে হার্ট অ্যাটাক এড়ানোর উপায়
● সকালে টয়লেটে যাওয়ার আগে তাড়াহুড়ো করবেন না—আগে শরীরকে একটু উষ্ণ করুন।
● টয়লেটের সিট ও মেঝে যেন বেশি ঠান্ডা না হয়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন।
● পর্যাপ্ত ফাইবারযুক্ত খাবার খান এবং যথেষ্ট পানি পান করুন—যাতে কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়।
● হৃদ্রোগী ও বয়স্করা ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়ো করা এড়িয়ে চলুন।
● শীতকালে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করে রাখুন।
দীর্ঘায়ুর রহস্য—স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
আমরা সকলেই জানি—স্বাস্থ্যকর অভ্যাস জীবনকে রোগমুক্ত রাখে। কিন্তু, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের বিশেষজ্ঞদের এক গবেষণায় দেখা গেছে—স্বাস্থ্যকর অভ্যাস আয়ুও বাড়ায়। প্রায় ১৭০০ জনের অভ্যাস বিশদভাবে পরীক্ষা করে তাঁরা দেখেছেন—যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, ধূমপান করেন না এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস মানেন, তারা শুধু দীর্ঘকাল বাঁচেন না, বরং জীবনযাপনভিত্তিক রোগ—যেমন হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি—থেকেও সুরক্ষিত থাকেন।
অন্যদিকে, যারা ভুল জীবনযাপন করেন এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলেন না, তারা অসুস্থ তো হনই, পাশাপাশি নিজেদের আয়ুও কমিয়ে ফেলেন। তাই যদি আপনি রোগ থেকে বাঁচতে চান এবং দীর্ঘায়ু হতে চান, তবে আজ থেকেই আপনার অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে শুরু করুন।










