কলকাতা: স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার অধীনে আগামী ২৭ ডিসেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে ভোটারদের শুনানি শুরু হবে। স্পেশাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্তা জানান, সমস্ত পৌর এলাকায় সরকারি ভবনে শুনানির আয়োজন করা হবে। গ্রামীণ ও পঞ্চায়েত এলাকায় বিডিও, এডিও অফিস এবং ব্লক স্তরের সরকারি দপ্তরগুলোকে শুনানির স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
গুপ্তার মতে, সরকারি দপ্তরে শুনানি হলে বহু সুবিধা পাওয়া যাবে—ফার্নিচার, পাখা, শৌচাগার এবং বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকবে, ফলে সাধারণ মানুষের কোনো অসুবিধা হবে না।
৩২ লক্ষ ভোটারকে নোটিস:
স্পেশাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্তা জানান, এই প্রক্রিয়ায় মোট ৩২ লক্ষ ভোটারকে নোটিস দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষ নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাঁর মতে, দেড় দিনের মধ্যেই এই নোটিসগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় সফটওয়্যার প্রস্তুত হওয়ার পর কাজ শুরু হয় এবং রবিবার দিন–রাত কাজ করে নোটিস বিতরণ করা হয়। বাকি ২২ লক্ষ নোটিস আগামী দুই–তিন দিনের মধ্যে জেনারেট করে পাঠানো হবে।
বিএলও বাড়ি বাড়ি গিয়ে নোটিস দেবেন:
গুপ্তা স্পষ্ট করেন যে, প্রত্যেক ভোটারের বাড়িতে গিয়ে বিএলও-কে ম্যানুয়ালি নোটিস দিতে হবে। এটি প্রমাণ হিসেবে জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ “নোটিস পাইনি” বলে দাবি করতে না পারে। নোটিস শুধুমাত্র ইংরেজি ভাষায় দেওয়া হবে।
পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে শুনানি:
ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে শুনানির তারিখ ও সময় নির্ধারণ করা হবে। এईআরও-রা মাঠের পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। গুপ্তা জানান, পরীক্ষাগুলো বন্ধ রেখে SIR-এর কাজ করা হবে না।
বিএলও-দের অসন্তোষ নিয়ে ব্যাখ্যা:
বিএলও-দের কাজ বেড়ে যাওয়া নিয়ে যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, সে বিষয়ে গুপ্তা বলেন যে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও ডিপ্লয়মেন্ট একসঙ্গে চলছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় নির্দেশগুলি ধাপে ধাপে দেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শেখা-শেখানোর প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে, যার ফলে বিএলও-দের কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ও সময়সীমা:
শুনানির সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী বা ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট নির্দেশ আসেনি। আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের ওপরই থাকবে। প্রায় ৩,৩০০ জন আধিকারিক এই শুনানিতে অংশ নেবেন এবং জানুয়ারির শেষের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে।










