‘প্রাইম টাইমে’ বাংলা ছবি বাধ্যতামূলক, নির্দেশ নবান্নের  

8-3

বড় বাজেটের হিন্দি বা সাউথের ছবির আগ্রাসনে প্রেক্ষাগৃহে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছিল বাংলা ছবি। প্রাইম টাইমে সেইভাবে শো না পাওয়ার অভিযোগ উঠছিল বাংলা ছবির পরিচাল-প্রযোজক ও অভিনেতাদের তরফে। এই প্রেক্ষাপটেই এবার প্রতিদিন রাজ্যের সব সিনামে হলের প্রাইম টাইমে বাংলা ছবি চালানো বাধ্যতামূলক করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। নবান্নের তরফে সেই মর্মে নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে।প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষদের উদ্দেশে রাজ্য সরকারের কড়া নির্দেশ, ৩৬৫ দিন রাজ্যের সমস্ত সিনেমা হল, মাল্টিপ্লেক্সে প্রাইম টাইমে অন্তত একটি করে বাংলা সিনেমা চালাতেই হবে। বাংলা ভাষার ওপর আক্রমণ নিয়ে কয়েকদিন ধরেই সরব খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ্‌ই আবহে রাজ্যের এই নির্দেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বুধবার রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দফতর থেকে  জারি করা নির্দেশিকায়  বলা হয়েছে, ‘‘রাজ্যের সব সিনেমাহল এবং মাল্টিপ্লেক্সের সমস্ত স্ক্রিনে ৩৬৫ দিন ধরেই প্রাইম টাইমে অন্তত একটি বাংলা ছবি দেখাতেই হবে।’’ রাজ্য সরকার জানিয়েছে, প্রাইম টাইম বলতে বোঝায় দুপুর ৩টে থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। অর্থাৎ, ওই সময়ের মধ্যে অন্তত একটি বাংলা ছবি দেখানো বাধ্যতামূলক। ১৯৫৪ সালের পশ্চিমবঙ্গ চলচ্চিত্র আইন মেনে এই নির্দেশিকা জারি হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করা হবে বলেও জানিয়েছে রাজ্য সরকার। নবান্ন স্পষ্ট জানিয়েছে, জারি হওয়ার মুহূর্ত থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর করতে হবে এবং যত দিন না নতুন কোনও নির্দেশিকা জারি হচ্ছে, তত দিন এটাই কার্যকর থাকবে। হিন্দি সিনেমার জন্য বাংলাতেই বাংলা সিনেমার ভাঁড়ারে টান কিংবা বলিউড, দক্ষিণী সিনেইন্ডাস্ট্রির মেগাবাজেট ছবির ধাক্কায় বাংলা সিনেমার বাজার  মন্দা। ধুঁকতে থাকা সিঙ্গলস্ক্রিনগুলিকে ব্যবসার স্বার্থেই এযাবৎকাল মুম্বইয়ের প্রযোজনা সংস্থার শর্তের কাছে মাথা নোয়াতে হত। ফলে কোণঠাসা হতে হত বাংলা সিনেমাকে। সেই সমস্যার সমাধান খুঁজতেই গত সপ্তাহে নন্দনে টলিউড ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন অরূপ বিশ্বাস। সেদিনই আভাস মিলেছিল যে এবার ইতিবাচক কোনও পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। এযাবৎকাল মেগাবাজেট হিন্দি সিনেমার গুঁতোয় কখনও ভালো ব্যবসা করা বাংলা ছবিকে হল থেকে উৎখাত করা হয়েছে, আবার কখনও বা ব্যবসার স্বার্থে বাংলা সিনেমার শো কমিয়ে দেওয়া হয়েছে মারাত্মক হারে। যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে বাংলার ছবির ক্যাশবাক্সে। তবে এবার থেকে রাজ্যের হলগুলিতে প্রাইম টাইমে চলবে বাংলা ছবি। তাতে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির হাল ফিরবে বলেই মনে করছে বাণিজ্যমহল। সম্প্রতি বাংলা ভাষাও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির আঙিনায় ঢুকে পড়েছে। রাজনৈতিক আলোচনায় বাঙালি জাতিসত্তার পরিচিতিও ঢুকে পড়েছে। এ নিয়ে শাসকদল তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে সংঘাত তুঙ্গে। সেই পরিস্থিতির সঙ্গে এই নির্দেশ সম্পর্কযুক্ত বলেই মনে করছেন অনেকে। দেশের অন্তত ৫-৭টি রাজ্যে বাংলাভাষীদের উপরে নিগ্রহের অভিযোগে আলোড়ন চলছেই। এ নিয়ে সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলনেত্রী মমতার নির্দেশে ‘ভাষা আন্দোলন’ কর্মসূচিও নিয়েছে তৃণমূল। পরের বছর রাজ্যে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে  বিজেপি বিরুদ্ধে লড়াই করতে তৃণমূল হাতিয়ার করতে চায় বাংলা ভাষা এবং বাঙালি অস্মিতাকে। তাই প্রতি শনি এবং রবিবার তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের ভাষা আন্দোলনের নাম দিয়ে মিছিল করে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহে এ বার সমস্ত সিনেমাহলেও বাংলা ছবি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত অনেকের। 

About Author

Advertisement